ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন লালবাগের কেল্লা - দিগন্ত জার্নাল

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন লালবাগের কেল্লা

প্রতিবেদক: ফাইজা রহমান অনু

শুক্রবার, (১৬ মে ২০২৫) বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে লালবাগের কেল্লা অন্যতম। মোঘল আমলের স্থাপত্যশৈলীর অপূর্ব নিদর্শন এই কেল্লা আজও বহন করে চলেছে শতাব্দীপ্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গর্বিত স্বাক্ষর।

লালবাগ কেল্লা নির্মাণ শুরু হয় ১৬৭৮ সালে, মোঘল সুবেদার প্রিন্স মুহম্মদ আজম শাহীনের শাসনকালে। তবে তাঁর পিতার আদেশে দিল্লি প্রত্যাবর্তনের ফলে নির্মাণকাজ অসমাপ্ত থেকে যায়। পরবর্তীতে সুবেদার শায়েস্তা খান ঢাকায় নিযুক্ত হলে কেল্লার নির্মাণ কাজ আবার শুরু হলেও, তার কন্যা পারীবিবি মৃত্যুবরণ করলে শোকাবিষ্ট শায়েস্তা খান কেল্লার নির্মাণ অসমাপ্ত রেখেই তা বন্ধ করে দেন। সেই থেকে কেল্লাটি “অপূর্ণ কেল্লা” নামেও পরিচিত।

কেল্লার অভ্যন্তরে রয়েছে তিনটি মূল স্থাপনা—দরবার হল বা অন্দরমহল, পারীবিবির সমাধি এবং একটি সুবিশাল মসজিদ। পারীবিবির সমাধির নির্মাণশৈলী চোখে পড়ার মতো। মোঘল স্থাপত্যে গম্বুজ, কারুকার্য ও মার্বেল পাথরের ব্যবহার একে অনন্য মর্যাদা দিয়েছে। সমাধির ভেতরের শীতলতা, নিঃশব্দ পরিবেশ ও সূক্ষ্ম কারুকাজ যেন আজও পারীবিবির করুণ পরিণতির স্মৃতি ধারণ করে রেখেছে।

লালবাগ কেল্লার ভিতরে রয়েছে সুপরিকল্পিত জলাধার, ফোয়ারা, সুড়ঙ্গ ও বাগান। জানা যায়, এই কেল্লার গোপন সুড়ঙ্গ পথ ঢাকার বাইরে চলে যেত, যদিও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে নিরাপত্তার কারণে।

বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে থাকা লালবাগ কেল্লা পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত। প্রতিদিন হাজারো দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি দেখতে আসেন। শিক্ষার্থীদের জন্য এটি শুধু ভ্রমণস্থান নয়, ইতিহাসচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রও বটে।

বাংলাদেশের অতীত গৌরব ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে রাখা এই লালবাগ কেল্লা শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা নয়, এটি একটি জীবন্ত ইতিহাস—যা বারবার আমাদের ফিরিয়ে নেয় মোঘল শাসনামলের স্মৃতির ভুবনে। সংরক্ষণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে এই নিদর্শনটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও সমৃদ্ধ ও অর্থবহ হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন ঐতিহাসিকগণ ও নাগরিক সমাজ।

an adbox will go here