দেশজুড়ে গ্রীষ্মের তীব্রতা—প্রকৃতি খুঁজছে শান্তির পরশ - দিগন্ত জার্নাল

দেশজুড়ে গ্রীষ্মের তীব্রতা—প্রকৃতি খুঁজছে শান্তির পরশ

প্রতিবেদক: ফাইজা রহমান অনু

শনিবার, (১৭ মে ২০২৫) সারা দেশজুড়ে এখন গ্রীষ্মের প্রকোপ। চৈত্রের শেষ থেকে জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝি সময়—এই গ্রীষ্মকাল প্রকৃতির রুক্ষতা ও তাপদাহের এক চিত্রপট যেন। মাঠ-ঘাট, নদী-নালা, শহর-গ্রাম সবখানেই খরা আর গরমের এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রোদের তেজ যেন দিনকে আগুনে পরিণত করেছে। দুপুরের পর থেকে পথঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে পড়ে; মানুষ আশ্রয় নেয় ঘরের ভেতরে কিংবা গাছগাছালির ছায়ায়।

নদী-খাল শুকিয়ে আসছে, জলাশয়ের পানি কমে যাওয়ায় কৃষিকাজে ব্যাঘাত ঘটছে। অনেক এলাকায় সেচের পানির সংকট দেখা দিয়েছে। উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে ইতোমধ্যেই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির ঘর ছুঁয়ে ফেলেছে। পুড়ে যাওয়া এই প্রকৃতিতে সবুজ পাতাও যেন নুইয়ে পড়েছে। শাল, গজারী, কড়ই কিংবা কাঁঠাল—সব গাছের পাতাতেই ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট।

তবুও প্রকৃতির এই গ্রীষ্মকালের মাঝেও কিছু সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে। কৃষ্ণচূড়া আর রাধাচূড়ার লালে-হলুদে রঙিন হয় শহরের রাস্তাঘাট। কদম, জারুল, বকুল ফুল ফোটে, আম ও কাঁঠালের গন্ধে মাতোয়ারা হয় বাতাস। গ্রামে গ্রামে শুরু হয় পাকা আম, জাম, লিচু আর কাঁঠাল তোলার উৎসব। শিশুদের চোখে-মুখে দেখা যায় একধরনের ঋতুবন্দনা।

তবুও প্রকৃতি যেন অপেক্ষা করছে একটি প্রশান্তিময় বৃষ্টির। তপ্ত মাটি আর ক্লান্ত গাছপালা চেয়ে আছে আকাশের দিকে—কখন নামবে সেই কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি, কখন শীতল হবে চারপাশ। কৃষকরা তাকিয়ে আছেন বর্ষার আগমনবার্তায়, কারণ গ্রীষ্মের শেষ মানেই ধান রোপণের প্রস্তুতি।

এ যেন প্রকৃতির নিজের ভেতরের পরীক্ষার সময়—একটি ঋতুর ক্লান্তি, আরেকটি ঋতুর আশার হাতছানি। আর আমরা, প্রকৃতির সন্তানরা, সেই রুক্ষতা ও রঙের এই যুগলবন্দি দেখে বুঝে নিতে পারি ঋতুচক্রের নিগূঢ় সৌন্দর্য।

প্রতিবেদন:
দিগন্ত জার্নাল প্রতিবেদক, সাম্যের আহ্বানে।

an adbox will go here