গাজায় ত্রাণসহায়তা: এক চামচ পরিমণ বলে মন্তব্য জাতিসংঘ মহাসচিবের - দিগন্ত জার্নাল

গাজায় ত্রাণসহায়তা: এক চামচ পরিমণ বলে মন্তব্য জাতিসংঘ মহাসচিবের

শনিবার , ২৪ মে ২০২৫ | গাজা সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে ইসরাইল ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করছে এবং এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ ত্রাণ ঢুকেছে, তা ‘এক চা চামচের সমান’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। শুক্রবার (২৩ মে) গাজার ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। খবর: আনাদোলু এজেন্সি।

গুতেরেস বলেন, কেরেম শালোম ক্রসিং দিয়ে প্রায় ৪০০ ট্রাক ঢোকার অনুমতি দেওয়া হলেও মাত্র ১১৫টি ট্রাক থেকে ত্রাণ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। এই সংকটকালে কিছু গমের আটা, শিশুদের খাবার ও ওষুধ সরবরাহ করা গেলেও তা চরম অপ্রতুল। “আমরা একটি যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করছি। এখন পর্যন্ত যা ঢুকেছে, তা এক চা চামচের সমান,”—জানান জাতিসংঘ প্রধান।

তিনি আরও বলেন, গাজার চার-পঞ্চমাংশ এলাকাজুড়ে সাধারণ মানুষের চলাচল নিষিদ্ধ, যা মানবিক কার্যক্রমকে প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে। দ্রুত সহায়তা না পৌঁছালে সেখানে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হবে বলে সতর্ক করেন গুতেরেস।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি বিমান হামলায় গাজায় আরও ৭৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। নেতানিয়াহুর বাহিনী উত্তরের হামলা আরও জোরালো করেছে। হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়া আহতদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, গাজার ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ১৯টি চালু রয়েছে এবং এর মধ্যে পুরোপুরি কার্যকর মাত্র ১২টি। সাম্প্রতিক হামলায় চারটি প্রধান হাসপাতাল—ইন্দোনেশিয়া, ইউরোপিয়ান গাজা, কামাল আদন ও হাম্মাদ হাসপাতাল—বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে, ইউনিসেফ ২০টি ট্রাকে পুষ্টিকর খাদ্য দেইর আল বালাহ অঞ্চলে পৌঁছে দিতে পেরেছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সহায়তায় দক্ষিণ ও মধ্য গাজার কিছু বন্ধ বেকারি আংশিকভাবে চালু হয়েছে। তবে পরিস্থিতির তুলনায় এই সহায়তা খুবই সীমিত।

ইসরাইল দাবি করছে, কেরেম শালোম দিয়ে ৩০০ ট্রাক ত্রাণ গাজায় প্রবেশ করেছে। কিন্তু গুতেরেস জানিয়েছেন, এর এক-তৃতীয়াংশও গাজা শহরে পৌঁছাতে পারেনি নিরাপত্তাহীনতার কারণে। উত্তরের দিকে এখনো কোনো ত্রাণ যায়নি। এছাড়া মার্কিন-সমর্থিত নতুন ত্রাণ বণ্টন ব্যবস্থায় জাতিসংঘ অংশ নেবে না বলেও সাফ জানিয়েছেন তিনি।

an adbox will go here