গাজায় যুদ্ধে বিপর্যস্ত ইসরাইলি বাহিনী, সেনা সরঞ্জামে চরম যান্ত্রিক ও রসদ সংকট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
শনিবার, (৭ জুন ২০২৫) গাজায় দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ফলে চরম যান্ত্রিক ও রসদ সংকটে পড়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। ট্যাংক, সাঁজোয়া যান এবং অস্ত্রশস্ত্রের প্রযুক্তিগত ত্রুটি প্রকট হয়ে উঠেছে বলে শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম মা’আরিভ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় মোতায়েন সেনা, কোম্পানি ও ব্যাটালিয়নের কমান্ডার এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—সেনাবাহিনীর বহু সরঞ্জাম বর্তমানে ব্যবহার-অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এর মূল কারণ হিসেবে যন্ত্রাংশের অভাব এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা যুদ্ধে টানা ব্যবহারে সরঞ্জামের আয়ুষ্কাল ফুরিয়ে যাওয়া দায়ী।
বিশেষত ৭ম সাঁজোয়া ব্রিগেডের ট্যাংকগুলোতে ইঞ্জিন, ট্র্যাক এবং কন্ট্রোল সিস্টেমের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
এক সিনিয়র ইসরাইলি কর্মকর্তা বলেন, “আমরা গত দুই বছর ধরে গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় যুদ্ধ করছি। একটার পর একটা মিশনে অংশ নিয়ে যানগুলো অব্যাহত ক্ষয়ে পড়ছে। কিছুই চিরস্থায়ী নয়—এখন এসব সরঞ্জামের আয়ু শেষের পথে।”
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শুধু ৭ম ব্রিগেডই নয়, বরং সেনাবাহিনীর প্রায় সব ইউনিট—বিশেষ করে সাঁজোয়া, কামান এবং পদাতিক বিভাগ—এই সংকটে ভুগছে।
মা’আরিভ একটি সাম্প্রতিক ঘটনার উল্লেখ করে জানায়, গাজা শহরের জাবালিয়ায় গিভাতি ব্রিগেডের একটি ট্যাংকের কামান অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন ধরে যায়। দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তাদের কনভয় হামাসের পুঁতে রাখা আইইডি বিস্ফোরণে পড়ে। এতে তিন সেনা নিহত ও দুজন গুরুতর আহত হন।
ইসরাইলি বাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “যুদ্ধযানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন ও সংস্কার এখন অতীব জরুরি, কিন্তু সেনাবাহিনী মারাত্মক যন্ত্রাংশ সংকটে রয়েছে।”
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরাইল গাজায় যে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে, তাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৪,৭০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন—যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থাগুলোর মতে, ২২ লাখের বেশি গাজাবাসী বর্তমানে দুর্ভিক্ষের চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন।
এরই মধ্যে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। পাশাপাশি ইসরাইল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও (আইসিজে) গণহত্যার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি।