“আশ-শিহাবুস সাকিব”: একটি ঐতিহাসিক সত্যের দীপ্ত দলিল: শায়েখ মুফতি হাফিজুদ্দীন - দিগন্ত জার্নাল

“আশ-শিহাবুস সাকিব”: একটি ঐতিহাসিক সত্যের দীপ্ত দলিল: শায়েখ মুফতি হাফিজুদ্দীন

দিগন্ত রিপোর্ট | রোববার, ২৭জুলাই ২০২৫

মাদানি মজলিস বাংলাদেশ এর সভাপতি, শায়েখুল হাদিস শায়েখ মুফতি হাফিজদ্দীন দাঃবাঃ “আশ-শিহাবুস সাকিব” গ্রন্থ পরিচিত তুলে ধরেছেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, আকীদাগত স্পষ্টতা এবং বাতিল শক্তির ষড়যন্ত্র খণ্ডনের এক অনন্য গ্রন্থ “আশ-শিহাবুস সাকিব”। উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম, শায়খুল ইসলাম হযরত মাওলানা সায়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী রহ. রচিত এ গ্রন্থটি যুগের প্রয়োজন ও আকীদা-ইতিহাসের অমূল্য রেফারেন্স হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গ্রন্থের সূচনা: ইতিহাসের উত্তাল সময়

এই কিতাবটি রচিত হয় তখন, যখন উপমহাদেশে ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদের ছায়ায় দ্বীনি জ্ঞান, আলেম সমাজ ও সাধারণ মুসলিমদের বিভ্রান্ত করতে ষড়যন্ত্র শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় কিছু ব্যক্তি মক্কা-মদীনার সরল উলামাদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে “হুসামুল হারামাইন” নামে একটি বিতর্কিত ‘কাফের ফতোয়া’ সংগ্রহ করেন, যার মাধ্যমে দেওবন্দী আকাবিরদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়।

এক চক্রান্তের জবাবে এক দীপ্ত জবাব

এই ষড়যন্ত্রের জবাবে হযরত মাদানী রহ. হারামাইনের ওলামাদের সামনে দেওবন্দী ওলামাদের আকীদা ও অবস্থান স্পষ্ট করেন। তৎকালীন ওলামায়ে হারামাইন নিজেদের ভুল উপলব্ধি করে পূর্বের ফতোয়া প্রত্যাহার করে নেন এবং “গায়াতুল মামূল” নামে জবাবি কিতাব রচনা করেন। তাঁদের অনুরোধেই হযরত মাদানী রহ. রচনা করেন “আশ-শিহাবুস সাকিব”।

গ্রন্থের বৈশিষ্ট্য

এই কিতাবটি শুধু জবাবি গ্রন্থ নয়, বরং এটি—

  • এক যুগান্তকারী দালিলিক দলিল,
  • ইতিহাসের সত্য-সন্ধানী নথি,
  • বাতিলের মুখোশ উন্মোচনের আয়না।

এতে রেজাখানি ঘরানার মিথ্যাচার ও প্রপাগান্ডার দলিলভিত্তিক জবাব দেওয়া হয়েছে। কিতাবে স্পষ্ট করা হয়েছে, দেওবন্দী আকাবিরগণ প্রকৃত অর্থেই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অনুসারী।

পাঠকের জন্য উপকারিতা

  • ইতিহাস ও আকীদা একত্রে জানার সুযোগ।
  • দেওবন্দী আকাবিরদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তথ্যভিত্তিক প্রতিবাদ।
  • ইসলামী মাযহাব, তাসাওউফ ও চিন্তাধারার শুদ্ধ রূপরেখা।
  • বাতিল চিহ্নিত করার প্রামাণ্য হাতিয়ার।

অনুবাদ ও প্রকাশনা

হযরত শায়খুল ইসলাম রহ.-এর বিশিষ্ট খলিফা, বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেম হযরত মাওলানা নুরুল্লাহ রহ. এ কিতাবের অনুবাদ শুরু করেন। তাঁর সুযোগ্য সন্তান মুফতী নুসরুতুল্লাহ নূর দা.বা. অনুবাদটি সম্পন্ন করেন ও তা প্রকাশিত হয়। আজও এই গ্রন্থটি প্রাসঙ্গিক এবং গবেষক, তালিবে ইলম ও আলেম সমাজের জন্য অপরিহার্য।

উপসংহার

“আশ-শিহাবুস সাকিব” কেবল একটি গ্রন্থ নয়—এটি একটি আন্দোলন, একটি আলোকবর্তিকা। যারা সত্য জানতে চান, ইতিহাস বুঝতে চান, কিংবা আকীদার আলোকে বাতিলের মুখোশ খুলতে চান, তাঁদের জন্য এই গ্রন্থ একটি অনন্য কষ্টিপাথর। আল্লাহ তাআলা কিতাবটির খিদমতকারীদের কবুল করুন। আমিন।

– দিগন্ত জার্নাল | সাহিত্য ও গ্রন্থ পর্যালোচনা বিভাগ

an adbox will go here