রাসুল ﷺ এর চোখের অশ্রু, শালীনতা এবং আবেগের নিয়ন্ত্রণ - দিগন্ত জার্নাল

রাসুল ﷺ এর চোখের অশ্রু, শালীনতা এবং আবেগের নিয়ন্ত্রণ

আয়েশা ফারহীন:
ইব্রাহিম নামে রাসুল ﷺ এর এক সন্তান ছিলেন। উনি মারা যাওয়ার পর রাসুল ﷺ খুবই ব্যথিত ও মর্মাহত হন এবং কষ্টে তাঁর চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে শুরু করে। এ দৃশ্য দেখে আব্দুর রহমান ইবন আওফ বলেন, “ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনিও?” রাসুল ﷺ তখন বলেন, “এ হচ্ছে মায়া-মমতা।”

এখানে, হাদীসে “কান্না” শব্দটি ব্যবহৃত হয়নি, বরং বলা হয়েছে, উনার চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে লাগল। এটা প্রমাণ করে যে, রাসুল ﷺ এর চোখে অশ্রু ছিল নিয়ন্ত্রিত ও শালীন। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রয়েছে—কষ্টের মুহূর্তে অশ্রুপাত স্বাভাবিক, কিন্তু তা হতে হবে নিঃশব্দ ও শালীন।

অনেকেই এই হাদীস থেকে এমনটা বুঝতে চায় যে, কান্না করা বা আবেগপ্রবণ হওয়া কোনো দোষের নয়। কিন্তু এই হাদীস থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে, যে কষ্টে চোখে পানি চলে আসা একেবারেই স্বাভাবিক, তবে তা হওয়া উচিত শালীন ও নিয়ন্ত্রিত। রাসুল ﷺ এর মতোই আমাদের নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করতে হবে।

পুরুষদের জন্য, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—শালীনতা এবং নিয়ন্ত্রিত আবেগের মধ্য দিয়ে, তাঁরা নিজেদের শক্তি এবং মর্যাদা বজায় রাখতে পারেন। পুরুষদের জন্য প্রয়োজন রাফ অ্যান্ড টাফ হওয়া, কিন্তু এর মানে এই নয় যে, তারা অন্যদের অনুভূতির প্রতি সমব্যথী হতে পারবেন না। বরং, পুরুষদের হওয়া উচিত শক্তিশালী, দৃঢ় এবং অন্যদের জন্য আরও সহানুভূতিশীল।

এটি মনে রাখা জরুরি যে, পুরুষত্বের শালীনতা কখনোই ইমোশনাল হতে অস্বীকৃতি জানায় না, বরং শুধু নিজের আবেগ প্রকাশ করার জন্য উপযুক্ত মুহূর্ত ও পরিবেশের বিষয়।

an adbox will go here