অনলাইন ফ্যাসিবাদের প্রতিচ্ছবি: সিপি গ্যাং নিয়ে পিনাকী অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজনীতিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনের জন্য অনলাইন ট্রল বাহিনী ব্যবহার করা হয়—এমনটাই দাবি করেছেন বিশ্লেষক ও লেখক পিনাকী ভট্টাচার্য। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আওয়ামী লীগের berühmte অনলাইন গালিবাজ গ্রুপ “সিপি গ্যাং” নিয়ে বিস্তর অভিযোগ তুলেছেন। তার মতে, এটি ছিলো এক ধরনের ডিজিটাল ফ্যাসিবাদের ভ্রূণ, যা বিরুদ্ধ মতের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও অপপ্রচারের কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
পিনাকী ভট্টাচার্যের ভাষ্যমতে, এই গোষ্ঠী তৈরি হয়েছিলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপ প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকনের নেতৃত্বে। সিপি গ্যাং-এর মূল কাজ ছিলো ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে অনলাইনে গালিগালাজ ছড়ানো, বিরোধীদের চরিত্র হনন করা এবং এমনকি দলের অভ্যন্তরেও বামঘেঁষা আওয়ামী লীগারদের টার্গেট করা। তিনি বলেন, “আমি তখন সিপিবি করতাম। কিছু লিখলেই পোস্টে কুৎসিত গালির বহর নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তো সিপি গ্যাং। এমনকি সলিড আওয়ামী লীগাররাও তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। অমি পিয়ালের মতো লোকদেরও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছিলো।”
এই গালিবাজ বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে একসময় লেখক রেহনুমা আহমেদ “সিপি গ্যাং-এর বেশ্যা ব্যানার” নামে একটি বই লিখেছিলেন। সেখানে তিনি সিপি গ্যাং-এর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অনলাইন সন্ত্রাসের বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
পিনাকী ভট্টাচার্য এই গোষ্ঠীর কার্যক্রমকে ফ্যাসিবাদী কৌশল বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ সাধারণত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন, বিরোধীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, হুমকি দিয়ে চুপ করানো এবং বিরুদ্ধ মতের বিরুদ্ধে সহিংস আচরণকে উৎসাহিত করে। সিপি গ্যাং-এর কার্যক্রমও এই নীতির প্রতিফলন ঘটিয়েছে। এর সদস্যরা বিরোধীদের চরিত্র হনন করেছে, তাদেরকে সামাজিকভাবে হেয় করেছে এবং এমনকি নিজেদের দলের মধ্যেও কঠোর অনুশাসন প্রয়োগ করেছে।
পিনাকী ভট্টাচার্য আরও দাবি করেন যে, বর্তমানে বিএনপির অনলাইন কর্মীরাও একই পথ অনুসরণ করছে। তার ভাষায়, “আজ সেই সিপি গ্যাং-এর প্রেতাত্মা বিএনপির ওপর ভর করেছে। তারা বিন্দুমাত্র সমালোচনা সহ্য করতে পারছে না, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই। আল্লাহ জানে, ক্ষমতায় গেলে তারা ডাবল সিপি গ্যাং বানাবে কিনা।”
তিনি সতর্ক করেন, যদি রাজনৈতিক দলগুলো এ ধরনের অনলাইন সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দিতে থাকে, তবে ভবিষ্যতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুরোপুরি হুমকির মুখে পড়বে এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও সহিংস রূপ নেবে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে সুস্থ বিতর্কের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে দলগুলোকে এ ধরনের অনলাইন গালিবাজ বাহিনী নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।