চট্টগ্রামে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত: নাম মুছে দিয়েছিলো নওফেল
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চট্টগ্রামে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের বন্ধের জন্য বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল, যার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তার নেতৃত্বে নামফলক মুছে ফেলা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে জাদুঘরটি বন্ধ হয়ে যায়। এই পরিবর্তন ও বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিএনপির পক্ষ থেকে জাদুঘরটি পুনরায় খোলার দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের নাম পরিবর্তন করে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর করার জন্য ২০১৯ সালে ছাত্রলীগ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছিল এবং এর পরবর্তী সময়ে জাদুঘরের নামফলক মুছে দেওয়া হয়। ২০২২ সালে জাদুঘর বন্ধ করার বিষয়ে একটি সংগঠন জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়, যা পরবর্তীতে বাস্তবায়ন হয়।
জাদুঘরটি ১৯১৩ সালে ব্রিটিশ সরকার নির্মাণ করেছিল এবং পরে এটি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১৯৮১ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এই ভবনে অবস্থান করেন এবং পরে এটি জাদুঘরে পরিণত হয়। ১৯৯৩ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয় এবং সেখানে জিয়াউর রহমানের ব্যবহৃত কিছু সামগ্রী সংরক্ষিত রয়েছে।
বর্তমানে, জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের জন্য প্রায় আড়াই কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ রয়েছে, তবে এর অধিকাংশ টাকাই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন এবং পেনশন পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে। কিছু সংস্কার কাজ শুরু হলেও অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে তেমন কোনো বড় পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
জাদুঘরটি প্রতিদিন তিন শতাধিক দর্শনার্থী পরিদর্শন করেন, এবং এই খাত থেকে প্রতি বছর কিছু আয়ও হয়। তবে, ভবিষ্যতে এটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রয়োজন, এবং এজন্য দর্শনার্থীরা এতে আরও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন।