সারা দেশে বাড়ছে অপরাধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
রাজধানীসহ সারা দেশে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও হত্যার মতো অপরাধ বেড়েছে। সন্ধ্যার পর রাস্তাঘাট, পাড়া-মহল্লায় সাধারণ মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন স্থানে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অপরাধের পরিসংখ্যান
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে সারা দেশে ৭১টি ডাকাতি, ১৭১টি ছিনতাই, ২৯৪টি খুন ও ১০৫টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীতে ৮টি ডাকাতি, ৫৪টি ছিনতাই, ৩৬টি খুন ও ৩১টি অপহরণ হয়েছে। গত বছর সারাদেশে ৪৯০টি ডাকাতি, ১,৪১২টি ছিনতাই, ৩,৪৩২টি খুন ও ৬৪২টি অপহরণ হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত অপরাধের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়েও অনেক বেশি, কারণ অনেক ঘটনা পুলিশের কাছে নথিভুক্ত হয় না।
অপরাধ বৃদ্ধির কারণ
সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার কারণেই অপরাধ বাড়ছে। বিশেষ করে আগের সরকারের সময় দলীয়করণে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের নিষ্ক্রিয়তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
সাবেক আইজিপি নূরুল হুদা বলেন, “পুলিশ বাহিনীতে নানা কারণে কিছু সদস্য নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে। তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে অনেক মানুষ চরম সংকটে রয়েছে, যা অপরাধ প্রবণতা বাড়ার অন্যতম কারণ।”
সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র সক্রিয়
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাং গ্রুপ ও সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র দাপট দেখাচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলা ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে পথচারীদের আক্রমণ করছে।
সাম্প্রতিক কিছু অপরাধের ঘটনা:
চলন্ত বাসে ডাকাতি ও শ্লীলতাহানি: ১৭ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার দিকে গাবতলী থেকে রাজশাহী গামী একটি বাসে ডাকাত দল যাত্রীদের সর্বস্ব লুট করে এবং দুই নারী যাত্রীকে শ্লীলতাহানি করে।
উত্তরায় বাসে ছিনতাই: ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে উত্তরায় একটি বাসে যাত্রীবেশে থাকা ছিনতাইকারীরা অস্ত্রের মুখে মোবাইল ও মূল্যবান জিনিস লুট করে পালিয়ে যায়।
রিকশা আরোহীর ওপর হামলা: ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে দুই রিকশা আরোহীকে কুপিয়ে আহত করা হয়।
নিরাপত্তা বাহিনীর উদ্যোগ
অপরাধ দমনে সরকার “অপারেশন ডেভিল হান্ট” পরিচালনা করছে। যৌথ বাহিনীর অভিযান, সেনাবাহিনীর সহযোগিতা, সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টার স্থাপনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া ৫,৭৫০টি অস্ত্রের মধ্যে এখনো ১,৩৮৪টি অস্ত্র অপরাধীদের হাতে রয়ে গেছে। এসব অস্ত্র দিয়ে সংঘবদ্ধ অপরাধীরা বিভিন্ন অপতৎপরতা চালাচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এএআইজি (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর বলেন:
“আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি।”
সমাধানের পথ কী?
বিশ্লেষকদের মতে,
- পুলিশ বাহিনীর ভেতরে লুকিয়ে থাকা নিষ্ক্রিয় সদস্যদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া।
- গ্যাং অপরাধ দমনে কঠোর অভিযান পরিচালনা।
- ডাকাতি, ছিনতাই রোধে রাতের টহল বৃদ্ধি ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা।
- অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হলে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।