ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ: সৌদি আরব ও তুরস্কের ভূমিকায় নতুন মোড়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ইউক্রেন যুদ্ধের পরিস্থিতি পাল্টে যাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনকে সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য উদ্যোগ নিয়েছে। এই লক্ষ্যে সম্প্রতি সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ইউক্রেন, ইউরোপ এবং তুরস্ককে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সৌদি আরব এই মধ্যস্থতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের গুরুত্ব বাড়াতে চাইছে। সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) ২০২৩ ভিশনের অংশ হিসেবে দেশটিকে তেলের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বের করে আনতে চাচ্ছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে ফিলিস্তিন সংকটের সমাধানে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখতে চাইছেন।
তবে তুরস্ক এই প্রক্রিয়ার বাইরে বসে থাকেনি। যখন রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার আলোচনা চলছিল, তখন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা দেওয়ার নাম করে ইউক্রেনের খনিজ সম্পদের ৫০ শতাংশের মালিক হতে চায়, যা তিনি মেনে নেবেন না।
এদিকে ইউরোপীয় নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের একক পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ইউক্রেনের জন্য দীর্ঘস্থায়ী ও নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, না হলে ২০১৪-১৫ সালের মিনস্ক চুক্তির মতো এই শান্তি আলোচনাও ব্যর্থ হতে পারে।
পরিস্থিতির পরিবর্তনের ফলে ইউরোপ এখন নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়ানোর বিষয়ে ভাবছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ইউরোপের নিজস্ব সশস্ত্রবাহিনী গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তুরস্কও দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ চেয়ে আসছে। যদি ইউরোপীয় শক্তি স্বতন্ত্রভাবে গড়ে ওঠে এবং তুরস্ক ইইউ সদস্যপদ পেয়ে যায়, তাহলে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।