পদ থেকে যা সরে: ইউনুস খান - দিগন্ত জার্নাল

পদ থেকে যা সরে: ইউনুস খান

দিগন্ত জার্নাল সাহিত্য


পদ থেকে যা সরে 🖋️

ইউনুস খান

রক্তের উপর দাঁড়িয়ে শু’য়া’র
করিস না’ফ’র’মানী
অন্তরে তোর জা’লি’ম’শাহীর
পূর্ণ শ’য়’তা’নী।

দি’ল্লি দা’সির পক্ষে সাফাই
কৌশলে যা’স গেয়ে
অশ্রু সজল ঝর্ণা ধারায়
মায়ের দু’গাল বেয়ে।

তুই হা’রা’মি তর্জনী তো’র
কেমনে উ’ঠা’স জাতে
ঠান্ডা মাথায় খুন ঝরালি
জুলাই-আগস্ট রাতে।

বি’দ্রো’হ’তা’র থকমা দিয়ে
মরলো জো’য়া’ন-সেনা
তুই-তো ছিলি সে দলেরই
একটি গোলাম কেনা।

সত’র্ক-তো তো’রেই করি
তুই করিবার কে-রে
খোদার ক’ম’স আজ বলে যাই
পদ থেকে যা সরে।

আমরা ম’র’ণ ভয় করিনা
ম’র’ণ নিজেই ডরে
আমরা হলাম বিজলি-তুফান
জু’লু’ম’বা’জের তরে।

🖋️ রচনাকাল: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫


কবিতার রিভিউ 🖋️

“পদ থেকে যা সরে” কবিতাটি কবি ইউনুস খানের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরের এক অনবদ্য প্রকাশ। এটি নিছক একটি কবিতা নয়, বরং সময়ের দর্পণে একটি কঠোর বাস্তব প্রতিফলন। সম্প্রতি বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার তাঁর তর্জনী উঁচিয়ে জাতিকে সতর্ক করার নামে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের বাস্তবতাকে অস্বীকার করেছেন এবং ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের প্রসঙ্গ টেনে ৫৭ জন সেনা অফিসারের হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাদের আড়াল করে, সেই সময়ের মজলুম বিডিআর সদস্যদের দোষারোপ করার কৌশল নিয়েছেন।

এই কবিতায় সেই ষড়যন্ত্র, মিথ্যাচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ প্রকাশ পেয়েছে। কবি ইতিহাসের সত্যকে তুলে ধরতে চান এবং অন্যায়, অবিচার ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভাঙার আহ্বান জানান। কবিতার প্রতিটি চরণ তীক্ষ্ণ, প্রতিবাদী এবং দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করে, যা পাঠকের মনে এক প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করে।

কবি এখানে প্রতীকী ভাষায় শাসকের দমননীতিকে আঘাত করেছেন। দিল্লির দাসত্ব, ষড়যন্ত্রমূলক সাফাই গাওয়া, নিরীহদের উপর দোষ চাপানো—এসব উপাদান কবিতায় গভীরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে, “ঠান্ডা মাথায় খুন ঝরালি জুলাই-আগস্ট রাতে” চরণটি সরাসরি ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মরণ করিয়ে দেয়, যারা দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন।

এটি শুধুমাত্র সাহিত্য নয়, বরং একটি নৈতিক ঘোষণা—যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তারা ভয় পায় না; বরং অন্যায়ই তাদের ভয় পায়। কবিতার শেষ স্তবকে সেই অগ্নিস্ফুলিঙ্গ প্রতিবাদের কথা প্রকাশ পায়—

🖋️ “আমরা হলাম বিজলি-তুফান, জুলুমবাজের তরে।”

এই কবিতা ইতিহাসের এক সাহসী দলিল, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সত্যের পথে চলতে উৎসাহিত করবে। 🖋️

কবিতার রিভিশন: সম্পাদক, দিগন্ত জার্নাল

an adbox will go here