জুলাই বিপ্লবে চাঁনখানপুলে হত্যায় জড়িত পুলিশদের বিচারের দাবি - দিগন্ত জার্নাল

জুলাই বিপ্লবে চাঁনখানপুলে হত্যায় জড়িত পুলিশদের বিচারের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক । দিগন্ত জার্নাল

২৪ এর জুলাই আগস্ট( জুলাই বিপ্লব) আন্দোলনে রাজধানীর চাঁনখারপুলে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের অনেকেই এখনো বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন। ২৪ এর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট হাসিনা তার দলবলসহ দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেলেও তার অনুগত পুলিশ সদস্যরা নিজেদের রক্ষায় নানা তদবির করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শহিদ পরিবারগুলো বলছে, হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত না করলে তারা পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে।

জুলাই আগস্টের গণত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ৯৫২ পুলিশ সদস্যের নাম থাকলেও মাত্র ২৮ জন গ্রেফতার হয়েছেন, যা মোট আসামির মাত্র ২.৯৪ শতাংশ। চাঁনখারপুলে গুলি চালানোর নির্দেশদাতা রমনা বিভাগের তৎকালীন এডিসি শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলামকে বদলি করা হয় সিলেটে, তবে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে গেছেন।

শহিদদের স্বজনরা বলেছেন, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত ‘পুলিশ লীগ’-এর সদস্যদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। তাদের দ্রুত গ্রেফতার না করা হলে ন্যায়বিচার নিয়ে শঙ্কা তৈরি হবে।”

৫ আগস্টের শহিদ ও বিচার দাবি

চাঁনখারপুলে গুলিতে নিহত সাতজনের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন—
১. শাহরিয়ার খান আনাস (পুরান ঢাকা, গেন্ডারিয়া)

  1. শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদ (পুরান ঢাকা)
  2. মো. ইয়াকুব (বংশাল)
  3. ইয়াসিন আহমেদ রাজ (বংশাল)
  4. মো. ইসমামুল হক (চট্টগ্রাম, লোহাগাড়া)
  5. রাকিব হাওলাদার (ঝালকাঠি)

তাদের পরিবার বলছে, “আমাদের সন্তানেরা প্রকাশ্যে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে, ভিডিও প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু এখনো অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা হয়নি।”

কারা জড়িত, কোথায় আছেন?

চাঁনখারপুল হত্যাকাণ্ডের সময় রমনা বিভাগের পুলিশ কর্মকর্তা যারা দায়িত্বে ছিলেন—

ডিসি মো. আশরাফুল ইসলাম (বর্তমানে রংপুরে সংযুক্ত)

এডিসি শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম (সিলেটে বদলি, তবে পলাতক)

এসি মো. ইমরুল (রমনা বিভাগ)

এডিসি হাফিজ আল আসাদ (নিউমার্কেট জোনাল টিম)

এসি রেফাতুল ইসলাম (ধানমন্ডি জোন)

এডিসি মো. ইহসানুল ফিরদাউস (ধানমন্ডি জোন)

ওসি মোস্তাজিরুর রহমান (বর্তমানে বরিশালে কর্মরত)

ডিবি ডিসি মো. হুমায়ুন কবীর (রমনা গোয়েন্দা বিভাগ)

গ্রেফতার ও বিচার প্রক্রিয়া

গ্রেফতার হয়েছেন: এপিবিএন কনস্টেবল সুজন হোসেন, পরিদর্শক আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল ইমাজ হোসেন প্রামাণিক ও এসি জাবেদ ইকবাল প্রীতম।

পালিয়ে গেছেন: এডিসি আখতারুল ইসলাম।

শহিদ আনাসের বাবা শাহরিয়ার খান পলাশ বলেন, “আমার ছেলে চিঠিতে লিখেছিল— ‘স্বার্থপরের মতো ঘরে বসে থাকতে পারলাম না’। আজ তার হত্যাকারীরা মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।”

শহিদ পরিবারের সদস্যরা অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই হত্যাকারীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম বলেছেন, ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

শহিদ পরিবারের আহ্বান

শহিদদের স্বজনরা বলেন, “যারা গুলি চালিয়েছে, যারা নির্দেশ দিয়েছে— সবাইকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। না হলে দেশের মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে।”

an adbox will go here