২০২৫-২৬ বাজেটে জুলাই বিপ্লবে নিহত-আহতদের অন্তর্ভুক্তি
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীদের সংখ্যা তিন লাখ বৃদ্ধি এবং তাদের ভাতার পরিমাণে ৫০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ( জুলাই-বিপ্লব)
নিহত এবং আহতদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ৪০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হবে। তবে, বর্তমান মূল্যস্ফীতির কারণে গরিব ও দুস্থ মানুষের জন্য এই ভাতা বৃদ্ধির পরিমাণ কিছুটা অপ্রতুল মনে হচ্ছে, যা তাদের আর্থিক চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। বৈঠকে বলা হয়, দেশে চলমান অর্থনৈতিক সংকট এবং ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, গরিব এবং অতি দরিদ্র মানুষ সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে। এর কারণে, কর্মসংস্থান না হওয়া এবং বিনিয়োগের অভাবে তাদের জীবনমান আরও অবনতি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে, তাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি করা জরুরি ছিল।
আগামী অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন ৬০ লাখ ১ হাজার জন, যার সংখ্যা এক লাখ বাড়িয়ে ৬১ লাখ ১ হাজার করা হবে। তাদের মাসিক ভাতা ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিধবা ভাতা পাচ্ছেন ২৭ লাখ ৭৫ হাজার নারী, যাদের ভাতা ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫০ টাকা করা হবে এবং তাদের সংখ্যা এক লাখ বৃদ্ধি পেয়ে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার হবে। প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ৩২ লাখ ৩৪ হাজার থেকে বেড়ে ৩৩ লাখ ৩৪ হাজারে উন্নীত হবে এবং তাদের ভাতা ৮৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯০০ টাকায় উন্নীত হবে।
এদিকে, আগামী বাজেটে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত এবং আহতদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে। এ জন্য ৪০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং এটি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। বর্তমানে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ১৪০টি কর্মসূচি চলছে এবং গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে কিছু নীতিমালায় পরিবর্তন আনতে হবে।
অর্থ সচিব (সিনিয়র) মাহবুব আহমেদ যুগান্তরকে জানান, দেশে বিনিয়োগের অভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নেই এবং মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের অবস্থা খারাপ হয়ে পড়েছে। এসব কারণে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সরকারের এমন সিদ্ধান্ত সঠিক এবং এটি সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
এছাড়া, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিকল্পনার মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্য আরো কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। তবে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশে সামগ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া এবং সাধারণ মানুষের দুর্দশা কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই বাজেটের ঘোষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।