মহারাষ্ট্র কর্তৃক আওরঙ্গজেবের সমাধি রক্ষায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
মহারাষ্ট্রে আওরঙ্গজেবের সমাধি রক্ষায় এখন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মহারাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে এই সমাধি সরানোর দাবি জানিয়ে উত্তেজনা বেড়ে গিয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দল সরাসরি সমাধি ভেঙে ফেলার হুমকি দিয়েছে, তবে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস জানিয়েছেন, এটি একটি সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে রক্ষা করা হবে।
এদিকে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় ছত্রপতি শম্ভাজীনগর জেলার খুলদাবাদ এলাকায় সমাধিস্থলের নিরাপত্তা আরো বাড়ানো হয়েছে। সমাধির নিরাপত্তার জন্য একাধিক নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে, যেখানে স্থানীয় পুলিশ, রাজ্য রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (এসআরপিএফ) এবং হোমগার্ড সদস্যরা মোতায়েন করা হয়েছে। সমাধিতে প্রবেশের জন্য নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে, যেখানে দর্শনার্থীদের পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং তাদের নাম রেজিস্টারে নথিভুক্ত করতে হচ্ছে।
সমাধিস্থলের তত্ত্বাবধায়ক পারভেজ কবীর আহমেদ জানিয়ে দিয়েছেন, “এখানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং গুজবে বিশ্বাস করা উচিত নয়। রমজান মাসে এখানে সাধারণত দর্শনার্থীদের সংখ্যা কম থাকে, তবে সমাধি ভাঙার দাবির পর এই সংখ্যা আরও কমেছে। সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ১০০ জন দর্শনার্থী আসেন, কিন্তু সাম্প্রতিক বিতর্কের কারণে সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।”
ভিএইচপি ও বজরং দলের দাবির হুঁশিয়ারি
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পক্ষ থেকে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে তারা দাবি করেছেন যে আওরঙ্গজেব গুরু গোবিন্দ সিংয়ের দুই পুত্রকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন, মারাঠা সম্রাট শম্ভাজী মহারাজকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিলেন এবং কাশী, মথুরা, সোমনাথসহ বহু হিন্দু মন্দির ধ্বংস করেছিলেন। ভিএইচপি জানায়, “আওরঙ্গজেবের সমাধি আমাদের দাসত্বের প্রতীক, এটি পুরোপুরি ভেঙে ফেলতে হবে।” তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, সরকার যদি পদক্ষেপ না নেয়, তবে তারা নিজেদের উদ্যোগে ছত্রপতি শম্ভাজীনগর গিয়ে সমাধি ভেঙে ফেলবে।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস থানে জেলার ছত্রপতি শিবাজী মহারাজকে উৎসর্গ করা একটি মন্দির উদ্বোধনের সময় বলেন, “সরকার আওরঙ্গজেবের সমাধি রক্ষা করতে বাধ্য, কারণ এটি সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে ঘোষিত।” তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “এটি কোনোভাবেই মহিমামণ্ডিত করা হবে না।” তিনি আরও বলেন, “দুঃখজনক যে সরকারের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে আওরঙ্গজেবের সমাধির নিরাপত্তার জন্য, কিন্তু এটি ইতিহাসের অংশ হওয়ায় সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তবে যদি কেউ আওরঙ্গজেবের গৌরব প্রচারের চেষ্টা করে, তা সফল হবে না।”
এদিকে, মহারাষ্ট্রে এই বিতর্কে আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, এবং সরকারের পক্ষ থেকে শক্তিশালী নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যাতে অশান্তি বা সহিংসতা না ছড়ায়।