ওয়াকারের জরুরি অবস্থার ষড়যন্ত্র রুখে দেবে জনতার জোয়ার: ইউনুস খান - দিগন্ত জার্নাল

ওয়াকারের জরুরি অবস্থার ষড়যন্ত্র রুখে দেবে জনতার জোয়ার: ইউনুস খান

দিগন্ত জার্নাল

শুধুমাত্র ক্ষমতার লোভে গণহত্যা সংঘটিত করে ২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে পালানো বাহিনীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে যদি কেউ “জরুরি অবস্থা” ঘোষণা করে, তবে সেই দেশদ্রোহীদের ব্যারিকেড ভেঙে আমজনতা রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিকানা বুঝে নেবে।

চারিদিকে গুনজন শুনাযাচ্ছে জেনারেল ওয়াকার বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারি করে জরুরি সরকার ব্যবস্থা কায়েম করতে পারেন। তাতে করে জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে তাড়া খেয়ে ভারতে পালিয়ে অবস্থারত স্বৈরাশাসক হাসিনা সরকার দেশে ফিরে নতুন আরেকটা গণহত্যা সুসংগঠিত করবেন। যেখানে মারা পড়বে এবং ধরা পড়বেন জুলাই যোদ্ধারা ও তাদের সহযোগীরা । দেশ আবার মহাসংকটে পড়বে। তাই এই দূরবিসন্দীর বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ভাষা উচ্চারণ করে বলতে চাই, এমন কিছু হলে আমরা দল-মত, ধর্ম-বর্ণ, নির্বিশেষে তা কঠোর হচ্ছে দমন করবো ইনশাআল্লাহ্।

আজ দেশের জনগণ আর শুধু ভোট চায় না, বরং দেশদ্রোহী ও বহিরাগত শক্তির বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হতে চায়। যারা এ ভাষা বোঝার যোগ্যতা রাখে না, তারা ৫ আগস্টে পালিয়ে যাওয়া গণহত্যাকারীদের চেয়ে কোনো অংশে ভিন্ন নয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণ প্রস্তুত, আর এ সংগ্রামে যারা জনগণের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হবে, তারা চিরতরে বর্জিত হবে।

যারা গণতন্ত্রের মুখোশ পরে পরিবারতন্ত্র কায়েমের স্বপ্ন দেখে, তাদের স্বরূপ আজ জাতির সামনে উন্মোচিত। বিগত ১৬-১৭ বছরে ফ্যাসিবাদের শাসনে খুন, গুম, ধর্ষণ, লুটপাট, দখল, নির্যাতন, নিপীড়নের শিকার হয়েছে সমগ্র জাতি। বিশেষ কোনো গোষ্ঠী নয়, বরং পুরো দেশ এ দুঃশাসনের বলি হয়েছে। তাই আর কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে এককভাবে দেশের ক্ষমতা বুঝিয়ে দেওয়া হবে না—এ কথা স্পষ্ট।

বাংলাদেশের ৯২ থেকে ৯৫ শতাংশ মুসলমানদের দেশে ধর্মপ্রাণ জনগণ, আলেম-উলামা, পীর-মাশায়েখদের উপর সবচেয়ে বেশি নির্যাতন চালানো হয়েছে। অথচ আজ কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নিজেদেরকেই একমাত্র নির্যাতিত দাবি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে। মনে রাখতে হবে, এ ধরনের দাবিদাররাই ভবিষ্যতে নতুন ফ্যাসিবাদ হয়ে উঠবে। কারণ, ফ্যাসিবাদের প্রকৃত চরিত্র হলো—সুযোগ বুঝে অন্যের অবদানকে অস্বীকার করা।

আজ যারা দেশের স্বাধীনতা রক্ষা নয়, বরং শুধুমাত্র ভোটের হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত, তারা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়ে একদিন বিদেশি শক্তির দালালি করবে—এ কথা স্পষ্ট।

তাই আসুন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই একত্রিত হয়ে সকল ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলি।

মনে রাখতে হবে, আমরা বিগত ১৬-১৭ বছর ধরে কার্যত একপ্রকার “জরুরি অবস্থা”র মধ্যেই ছিলাম। সেই দীর্ঘ লড়াইয়ের ফলে ৫ আগস্ট ২০২৪-এ ফ্যাসিবাদীদের পতন ঘটেছে, তারা পালিয়ে গেছে। এবারও যদি কেউ নতুন করে ষড়যন্ত্র করে, আবারো জরুরি অবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে—তবে আমজনতা রুখে দাঁড়াবে, ইনশাআল্লাহ্!

ইনকিলাব জিন্দাবাদ!

— ইউনুস খান, ২৪ মার্চ ২০২৫, সোমবার।

an adbox will go here