ফ্যাসিস্ট হাসিনা পৃথিবীর সব নিষ্ঠুরতার সীমা ছাড়িয়েছেন জুলাই বিপ্লবে: প্রধান উপদেষ্টা
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য শেখ হাসিনা পৃথিবীর সব নিষ্ঠুরতার সীমা ছাড়িয়ে গেছেন। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে উঠে এসেছে, জুলাই আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন তথা জুলাই বিপ্লবে কীভাবে তিনি নিজ দেশের নিরস্ত্র জনগণের ওপর ভয়াবহ দমন-পীড়ন চালিয়েছেন এবং হত্যার পর লাশ গুমের নির্দেশ দিয়েছেন। জাতিসংঘের এ রিপোর্ট পড়ে সারা বিশ্বের বিবেক স্তব্ধ হয়ে গেছে।
মহান স্বাধীনতা দিবস ও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মঙ্গলবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। সেখানে এক লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে ইফতার করার সময় বাংলাদেশে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনের বিষয়টি উঠে আসে। জাতিসংঘ আগামী সেপ্টেম্বর মাসে সাধারণ অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে পৃথক অধিবেশন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। মালয়েশিয়া ও ফিনল্যান্ড এই সম্মেলনের আয়োজক হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের রিপোর্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা সরকার ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। গত জুলাই-আগস্ট মাসে আন্দোলন দমনে সরকারি বাহিনী ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের যৌথ অপারেশনে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৩ শতাংশ ছিল শিশু। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্দোলনের সম্মুখসারিতে থাকা নারী আন্দোলনকারীদের ওপর যৌন সহিংসতা চালানো হয়েছে।
ড. ইউনূস বলেন, জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনকে অন্তর্বর্তী সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব হলো এই ভয়াবহ অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করা, যেন ভবিষ্যতে আর কোনো সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য জনগণের ওপর এমন নিষ্ঠুর নির্যাতন চালানোর সাহস না পায়।’
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের সহযোগিতায় সত্য উদঘাটনে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালিত হবে। এতে জড়িত সব ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে, যাতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।