"ড. হাছান মাহমুদের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদকের কমিটি গঠন" - দিগন্ত জার্নাল

“ড. হাছান মাহমুদের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদকের কমিটি গঠন”

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
শেখ হাসিনা সরকারের তিনবারের মন্ত্রী এবং আলোচিত-সমালোচিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ড. হাছান মাহমুদের দুর্নীতি অনুসন্ধানে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, বিগত সরকারের মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের ‘অকল্পনীয় অবৈধ সম্পদ অর্জন’ সম্পর্কিত অভিযোগের অনুসন্ধান করতে ৩১ ডিসেম্বর একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি যাদের বিরুদ্ধে তথ্য চেয়েছে, তাদের মধ্যে আছেন- সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, তার স্ত্রী নুরান ফাতেমা, মেয়ে নাফিসা জুনাইনা মাহমুদ, ভাই এরশাদ মাহমুদ, খালেদ মাহমুদ, মোরশেদ মাহমুদ, রাসেল মাহমুদ, ড. হাছান মাহমুদের তিন ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) এমরুল করিম রাশেদ, মো. কায়সার, ও গিয়াস উদ্দিন স্বপন। এছাড়া ড. হাছান মাহমুদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও অনুসন্ধানের অন্তর্ভুক্ত: বিসমিল্লাহ মেরিন সার্ভিস লিমিটেড, একাডেমি অব মেরিন এডুকেশন অ্যান্ড টেকনোলজি লি., বিসমিল্লাহ মেরিন সার্ভিস জে.এ.এস লিমিটেড, মেসার্স বিসমিল্লাহ মেরিন সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড হোল্ডিংস, অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সোলার পাওয়ার লিমিটেড এবং সুখী বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন। এছাড়া ড. হাছান মাহমুদের আত্মীয়স্বজন ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারেও অনুসন্ধান চলছে।

দুদক সূত্র জানায়, এসব তথ্য সংগ্রহ করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ দেশের সম্ভাব্য অঞ্চলের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ড. হাছান মাহমুদের দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গঠিত কমিটির প্রধান করা হয়েছে দুদকের উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে। অন্যান্য সদস্যরা হলেন- উপপরিচালক কমলেশ মন্ডল, মিনহাজ বিন ইসলাম, আল আমিন, এবং খোরশেদ আলম।

দুদকের অনুসন্ধান দলের নেতা ও উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, “আমরা তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যারা আমাদের সাহায্য করতে চান, তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।” জানা গেছে, দুদক অনুসন্ধান দলের সদস্যরা ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং হাছান মাহমুদের নির্বাচনী এলাকা রাঙ্গুনিয়ায় বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান করেছেন এবং ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। নগরীর দেওয়ান বাজার এলাকায় ১৮ তলা ভবনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নগদ অর্থের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে অনুসন্ধান দলের ধারণা, বেশিরভাগ টাকাই বিদেশে পাচার করা হয়েছে। ড. হাছান মাহমুদের ছোট ভাই মোরশেদ মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে বসবাস করছেন এবং অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি হাছান মাহমুদের সব সম্পদ দেখভাল করছেন। এর পাশাপাশি বাংলাদেশে অনেক সম্পদ খালেদ মাহমুদ এবং এরশাদ মাহমুদ-এর নামে স্থানান্তরিত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানগুলো ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকে গড়ে উঠেছে।

an adbox will go here