টিয়াস বিমানঘাঁটি দখলে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তুরস্ক - দিগন্ত জার্নাল

টিয়াস বিমানঘাঁটি দখলে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তুরস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

রবিবার , ৬ এপ্রিল ২০২৫ || ইসরাইলের হামলার পর সিরিয়ার টিয়াস বিমানঘাঁটি (টি৪) দখলে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে তুরস্ক। নিরাপত্তা সূত্র জানাচ্ছে, তুরস্ক এই এলাকায় হিসার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমসহ বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করবে, এবং সেখানে রাশিয়া তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেমও স্থাপন করার সম্ভাবনা রয়েছে। তুরস্কের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তারা এমন একটি রাডার সিস্টেম মোতায়েন করবে যার রেঞ্জ হবে ৬০০ কিলোমিটার, যা ইসরাইলের আকাশসীমা নজরদারি করতে সক্ষম করবে।

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তুরস্ক ইসরাইলের আকাশসীমার ওপর পূর্ণ নজরদারি প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যা ইসরাইলের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তুরস্কের এ উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে, ইসরাইল তাদের সর্বশক্তি দিয়ে তুরস্কের বিমানঘাঁটি প্রতিরোধের চেষ্টা করছে, তবে তুরস্ক এতে ঘাবড়ে না গিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

এদিকে, তুরস্ক সিরিয়ার হোমস প্রদেশের টিয়াস বিমানঘাঁটি ও পালমিরা সামরিক বিমানবন্দরে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। তুরস্ক ওই অঞ্চলে হিসার-ও এবং হিসার-ইউ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম স্থাপন করতে চায়, এবং যদি সম্ভব হয়, দীর্ঘ-পাল্লার এসআইপিইআর সিস্টেমও মোতায়েন করবে। এছাড়া, রাশিয়ার অনুমতি নিয়ে এস-৪০০ সিস্টেমও সেখানে মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো ইসরাইলি বিমান হামলা প্রতিরোধ করা এবং সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের তৎপরতা দমন করা। তুরস্ক সিরিয়ায় ইরান ও রাশিয়ার উপস্থিতি হ্রাস পাওয়ার পর দেশটির প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে, তুরস্ক একটি সামরিক প্রতিনিধিদল ইদলিবে পাঠিয়ে টিয়াস বিমানঘাঁটি পরিদর্শন করেছে, যদিও এখন পর্যন্ত সেখানে কোনো সৈন্য মোতায়েন করা হয়নি।

এছাড়া, আলেপ্পো প্রদেশের আজাজ শহরের দক্ষিণে মেনাঘ সামরিক বিমানঘাঁটিতে নতুন একটি ঘাঁটি নির্মাণকাজ শুরু করেছে তুরস্ক, যেখানে সাঁজোয়া যান, লজিস্টিকসামগ্রী এবং নির্মাণ উপকরণ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, ইসরাইল সিরিয়ার টিয়াস বিমানঘাঁটিতে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে এবং তার রানওয়েতে ক্ষতি করেছে, যা ভারী পরিবহণ বিমান অবতরণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে। ইসরাইলের আশঙ্কা, তুরস্ক সিরিয়ার ভূখণ্ডে ঘাঁটি স্থাপন করলে ইসরাইলের আক্রমণ চালানোর স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে, সিরিয়া ও তুরস্কের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা এবং ইসরাইলের আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়ার দিকে বিশ্বের নজর রয়েছে।

an adbox will go here