নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণে বাংলাদেশ, জুলাই সনদ ঘিরে সংকট - দিগন্ত জার্নাল

নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণে বাংলাদেশ, জুলাই সনদ ঘিরে সংকট

বাংলাদেশ রাজনীতি, জুলাই বিপ্লব, জাতীয় গণভোট, জুলাই জাতীয় সনদ, বিএনপি জামায়াত বিরোধ, সংবিধান সংস্কার, উচ্চকক্ষ সংসদ, আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব, ড. মুহাম্মদ ইউনূস

শুক্রবার , ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব–পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত জাতীয় গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ ভিত্তিক গণভোটে ৬০.২৬ শতাংশ ভোটার সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও, সেই রায় বাস্তবায়ন ঘিরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং তাদের একসময়ের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামী–এর মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ সামনে এসেছে।

শপথ অনুষ্ঠানে স্পষ্ট বিভাজন

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে এই বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। সংবিধান রক্ষার শপথ নিলেও বিএনপির সংসদ সদস্যরা ‘সংবিধান সংস্কার কাউন্সিল’-এর সদস্য হিসেবে দ্বিতীয় দফা শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানান। অথচ জুলাই সনদ অনুযায়ী এই কাউন্সিল গঠনই সংস্কার বাস্তবায়নের প্রধান শর্ত।

বিএনপির এই অবস্থানের ফলে কাউন্সিলের বৈধতা এবং পুরো সংস্কার প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে মূল বিরোধ

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে সংসদের প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতি। জুলাই সনদে প্রস্তাবিত ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠনে জামায়াত ও ছাত্র আন্দোলন থেকে গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটি আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) পদ্ধতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এতে প্রাপ্ত ভোটের হার অনুযায়ী দলগুলো আসন পাবে।

অন্যদিকে, বিএনপি বিদ্যমান ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট (FPTP) বা সংখ্যাগরিষ্ঠতাভিত্তিক ব্যবস্থা বজায় রাখতে চায়, যা সংসদে দলটির আধিপত্য আরও শক্ত করবে বলে মত বিশ্লেষকদের।

বিএনপি ও বিরোধী পক্ষের অবস্থান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দলটি জুলাই সনদের সংস্কার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও নির্বাচিত সংসদের অনুমোদন ছাড়া সংস্কার কাউন্সিলকে বৈধ মনে করে না।

অন্যদিকে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা এই অবস্থানকে সংস্কার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন।

জুলাই বিপ্লব ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রণয়ন করে।

এই সনদে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি সহ ৮০টির বেশি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আইন অনুযায়ী এসব সংস্কার ১৮০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা থাকলেও বড় রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যকার এই বিভাজন বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, সংস্কার ইস্যুতে ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারলে জুলাই বিপ্লব–পরবর্তী রাজনৈতিক অর্জন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

an adbox will go here