ফিলিস্তিনে ইসরাইলের গণহত্যায় নীরব বিশ্ব ক্রীড়া সংস্থাগুলো - দিগন্ত জার্নাল

ফিলিস্তিনে ইসরাইলের গণহত্যায় নীরব বিশ্ব ক্রীড়া সংস্থাগুলো

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫ || ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রা’শি’য়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর মাত্র ৪ দিনেই ২৮ ফেব্রুয়ারি ফিফা ও উয়েফা যৌথভাবে রা’শি’য়ার জাতীয় দল ও ক্লাবগুলোকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করে। অথচ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইস’রাই’ল বেসামরিক জনগণের ওপর নির্বিচারে হা’ম’লা শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি ফিফা কিংবা উয়েফা। বরং এ বিষয়ে তারা সম্পূর্ণ নীরবতা পালন করছে।

গাজায় ইতোমধ্যে ৫০ হাজারের বেশি নিরপরাধ ফিলিস্তিনিকে নি’হ’ত করেছে দ’খ’ল’দার ইস’রাই’ল, যার মধ্যে ৩৪৪ জন পেশাদার ফুটবলার রয়েছেন। ফিফা ফুটবল খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে যে উচ্চস্বরে কথা বলে, সেই সংস্থাই আজ এতসব নৃ’শং’সতার পরও কোনো ন্যূনতম প্রতিবাদ পর্যন্ত জানায়নি। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ইস’রাই’লের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে নিষেধাজ্ঞার দাবি জানানো হলেও ফিফা অস্পষ্ট ও কূটনৈতিক ভাষায় বিবৃতি দিয়ে তা এড়িয়ে যায়।

অথচ ফিফার নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, তারা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকারকে সম্মান করে এবং যেকোনো ধরনের বৈষম্যকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ বলে বিবেচনা করে। এ ধরনের অপরাধের জন্য স্থগিতাদেশ বা বহিষ্কারের মতো শাস্তির কথা বলা আছে। কিন্তু গাজায় ইস’রাই’লের মা’নব’অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ফিফার পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি।

বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত মানবাধিকার সংস্থা একো ফিফার কাছে ইস’রাই’লের মা’নবাধিকার লঙ্ঘনের বিস্তৃত প্রমাণাদি উপস্থাপন করলেও কোনো কার্যকর প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এমনকি ইস’রাই’লি ক্লাবগুলো অবৈধভাবে দ’খ’ল’কৃত পশ্চিম তীরে ম্যাচ আয়োজন করলেও, ফিফা কোনো প্রতিবাদ জানায়নি। ২০১৬ সালে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছিল, “চু’রি করা ভূমিতে ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি দিয়ে ফুটবলের মতো সুন্দর খেলাকে কলঙ্কিত করেছে ফিফা।”

উল্টো, যারা ইস’রাই’লের নি’র্যা’তনের বিরুদ্ধে গ্যালারিতে ফিলিস্তিনের পতাকা তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন, তাদের ওপর হু’ম’কি ও হে’ন’স্তা চালিয়েছে ফিফা ও উয়েফা। ২০২৩ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে স্কটিশ ক্লাব সেল্টিকের সমর্থকদের হাতে ফিলিস্তিন পতাকা দেখে ক্লাবটিকে ১৯ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়, যাকে উস’কা’নিমূলক আচরণ হিসেবে চিহ্নিত করে উয়েফা।

একই ধরনের পক্ষপাতিত্ব দেখা গেছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কাউন্সিল (আইওসি)-এর ক্ষেত্রেও। ইউক্রেন ইস্যুতে তারা রা’শি’য়ার অ্যাথলেটদের দেশের পতাকা ব্যবহার নিষিদ্ধ করলেও, ফিলিস্তিনে নি’র্যা’তন চালানো ইস’রাই’লি অ্যাথলেটদের কোনো বিধিনিষেধের সম্মুখীন হতে হয়নি।

বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক এই সংস্থাগুলোর এমন নীরবতা এবং দ্বিমুখী নীতি ইস’রাই’লের গ’ণহ’ত্যাকে পরোক্ষভাবে সমর্থন করার নামান্তর, যা মানবতা, খেলাধুলা এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

an adbox will go here