সাইবার অপরাধের ফাঁদে সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা: সচেতনতার আহ্বান
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
সাম্প্রতিক সময়ে সাইবার অপরাধীরা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। বিসিএস-২৫ ব্যাচের এক কর্মকর্তা, মাহমুদা রহমান (ছদ্মনাম), এমন একটি ঘটনার শিকার হয়েছেন, যেখানে তার মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। অপরাধীরা তাকে ফোন করে করোনার চতুর্থ ডোজের রেজিস্ট্রেশনের কথা বলে ওটিপি জেনে নেয়। পরে তিনি বুঝতে পারেন, তার অ্যাকাউন্টগুলো হ্যাক করা হয়েছে।
অপরাধীরা ভুক্তভোগীর ফোনে ওটিপি সংগ্রহ করে প্রথমে মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, বা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণে নেয়। এরপর অ্যাকাউন্টে থাকা ব্যক্তিগত ছবি বা আলাপচারিতা দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। এছাড়া আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকেও অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়।
এক মাসে অন্তত ৬ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই চক্রের শিকার হয়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে অপরাধীরা সুন্দরী মেয়েদের দিয়ে ভিডিও কল করিয়ে স্ক্রিন রেকর্ড করে। এছাড়া ফেইক রেজিস্ট্রেশনে নেওয়া সিমকার্ড ও অবৈধ মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা ব্যবহার করছে।
সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ পুলিশ সুপার এসএম আশরাফুল আলম বলেন: > “সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। কারও সঙ্গে ওটিপি শেয়ার করবেন না। ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় রাখা উচিত নয়। অপরিচিত লিংক বা ভিডিও কল এড়িয়ে চলুন। ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে পরিবারকে জানান এবং পুলিশের সহায়তা নিন।”
সাইবার পুলিশের মতে, হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের জন্য তাৎক্ষণিক নতুন অ্যাকাউন্ট না খুলে পুলিশের সাহায্য নেওয়া উচিত। অপরিচিতদের ফেসবুকে যোগ করার আগে যাচাই করা এবং সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সতর্ক থাকুন, সাইবার অপরাধীদের ফাঁদ এড়ান।