মিরপুর ১০ গোলচত্বর ফুটওভার ব্রিজ থাকতেও ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা পারাপার
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
মানুষের অসচেতনতা ও আইনের প্রয়োগের অভাব দায়ী।
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর। দিনভর হাজারো মানুষের পদচারণা আর একের পর এক চলাচলরত যানবাহনের ভিড়ে এ এলাকা সবসময় মুখরিত। সড়কের এপার থেকে ওপারে যেতে ফুটওভার ব্রিজ থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ মানুষ তা ব্যবহার করছেন না। সরেজমিনে গত দুই দিন এই চত্বরে গিয়ে দেখা গেছে, হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া প্রায় সবাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সরাসরি রাস্তা পার হচ্ছেন।
ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করার কারণ: অনেকে মনে করেন, ব্রিজ ব্যবহার ঝামেলার। মিরপুর গার্লস আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষক পাখি জানান, ‘‘ব্রিজের সিঁড়িগুলো খাড়া ও উঁচু হওয়ায় শিশু ও বয়স্কদের জন্য ওঠানামা বেশ কষ্টসাধ্য। এছাড়া, ব্রিজের ওপরের অংশ অপরিচ্ছন্ন ও সংকীর্ণ।’’
একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মালা আক্তার বলেন, ‘‘ব্রিজে উঠতে ৫ মিনিট লাগবে, তবু কেউ নিচ দিয়ে পার হতে থাকলে আমরাও তাই করি। উপরন্তু, ব্রিজে মাদকসেবী ও বখাটেদের উপস্থিতি মেয়েদের জন্য অনিরাপদ করে তোলে।’’
ব্রিজের মাঝামাঝি অংশে বসানো হয়েছে চেয়ার-টেবিল, যা চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। সিঁড়িগুলো ময়লা আবর্জনায় ভরা, ছাউনি নেই। পূর্ব ও পশ্চিম পাশের সিঁড়ি ঘেঁষে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকানপাট ও হকারদের ভিড় ব্রিজে ওঠা-নামা আরও কঠিন করে তুলেছে।
মিরপুর ১০ নম্বরের ট্রাফিক সার্জেন্ট দেলোয়ার বলেন, ‘‘আমাদের অনেকেরই ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারের অভ্যাস নেই। আইন রয়েছে, জরিমানাও করা হয়, কিন্তু মানুষের মনমানসিকতা না বদলালে পরিস্থিতি পাল্টানো সম্ভব নয়।’’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি ও আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। ব্রিজগুলোর পরিবেশ উন্নত করা, অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কমানো এবং অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা জরুরি।
নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোরও কার্যকর ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।