বিসিবির টাকা স্থানান্তর নিয়ে সমালোচনায় ফারুক, মুখ খুললেন বিসিবিপ্রধান
স্পোর্টস প্রতিবেদক:
শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫ || জাতীয় দলের হতশ্রী পারফরম্যান্সের কারণে এমনিতেই সমালোচনার মুখে থাকা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নতুন করে চাপের মধ্যে পড়েছে ফিক্সড ডিপোজিটের (এফডিআর) টাকা স্থানান্তর ইস্যুতে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বিসিবি ১৪টি ব্যাংকে ২৩৮ কোটি টাকা স্থানান্তর করেছে। গত দুই দিন ধরেই দেশের ক্রিকেট অঙ্গন এ নিয়ে উত্তাল। এই অবস্থায় অবশেষে মুখ খুলেছেন বিসিবিপ্রধান ফারুক আহমেদ।
বোর্ড পরিচালনায় শুরু থেকেই পরিচালকদের সঙ্গে দূরত্ব, বিপিএল আয়োজনে পেশাদারিত্বের অভাব, টিকিট বিক্রির অস্বচ্ছতা, ডিপিএলের বিতর্কিত ঘটনা, দর্শকদের ক্ষোভ এবং দলের ব্যর্থ পারফরম্যান্সের কারণে ফারুকের ওপর চাপ বেড়েছে। তার ওপর যুক্ত হয়েছে ফিক্সড ডিপোজিট স্থানান্তরের বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, গত আগস্ট থেকে বিসিবির এফডিআর স্টেটমেন্ট অনুযায়ী, আইএফআইসি ও মিডল্যান্ডের মতো হলুদ তালিকাভুক্ত ব্যাংক থেকে ১২ কোটি টাকা সরিয়ে মধুমতী ব্যাংকে রাখা হয়েছে, যেখানে ইন্টারেস্ট হার বেশি হওয়ায় বিসিবির লাভ হবে।
পরবর্তী ধাপে আরো ১০ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয় এবং এভাবে ধাপে ধাপে ঝুঁকিপূর্ণ (রেড ও ইয়েলো জোনের) ব্যাংক থেকে মোট প্রায় ২৫০ কোটি টাকা সরিয়ে ১৪টি নতুন ব্যাংকে রাখা হয়েছে। এই নতুন ব্যাংকগুলো থেকে উচ্চ ইন্টারেস্ট রেটের পাশাপাশি স্পন্সরশিপ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত ২৫ কোটি টাকার প্রতিশ্রুতি পেয়েছে বিসিবি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গুঞ্জন ছড়ায়, বোর্ড পরিচালকদের অনুমতি ছাড়া একাই টাকা সরিয়েছেন ফারুক। তবে এটি সত্য নয় বলে নিশ্চিত হয়েছে। বিসিবির ফাইনান্স কমিটির প্রধান এবং একজন প্রভাবশালী বোর্ড পরিচালক পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
এ বিষয়ে বিসিবিপ্রধান বলেন, “২৩৮ কোটি টাকা। আমি কোথাও সাইন করি না। টাকাগুলো স্থানান্তরের খবর এসেছে, কেউ জানে না—এটাই হচ্ছে তার উত্তর। এখানে সবগুলো ২-৫% বেশি ইন্টারেস্ট রেটে দেয়া হয়েছে।” তিনি আরও যুক্তি দেন, “রেড জোন থেকে গ্রিন আর ইয়োলো জোনের ব্যাংকে টাকা নিয়ে গেছি। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকেও ১২ কোটি টাকা আছে। এদের কাছ থেকে ১২ কোটি টাকার মতো স্পন্সর পেয়েছি এবং ২৫ কোটি টাকার অবকাঠামোগত ইনভেস্টমেন্টের প্রতিশ্রুতি পেয়েছি।”
চাপে থাকা বিসিবি এখন পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যস্ত। তবে সামগ্রিকভাবে বিষয়টি দেশের ক্রিকেটের জন্য আরও নীতিগত স্বচ্ছতা এবং পরিচালন দক্ষতার দাবি তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।