ইসরাইলি অবরোধে দুর্ভিক্ষের চূড়ান্ত সীমায় গাজা, ঘরে ঘরে পঁচা রুটি খেতে বাধ্য মানুষ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫ | গাজায় ইসরাইলি অবরোধের কারণে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ঘরে ঘরে ক্ষুধায় কাতর মানুষ; অথচ খাবারের হাহাকার। বাজারগুলো ফাঁকা পড়ে রয়েছে, আর যেটুকু খাদ্যসামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে তা পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত। তবুও ক্ষুধার তাড়নায় নষ্ট খাবারই কিনতে বাধ্য হচ্ছে গাজার বাসিন্দারা।
আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, খাবারের সংকট এতটাই তীব্র যে নষ্ট আটার পচা রুটিই এখন গাজার মানুষের একমাত্র ভরসা। স্বাস্থ্যঝুঁকি উপেক্ষা করেই নষ্ট খাদ্য খেতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। গাজার আল-সাহাবা বাজারে এক ব্যাগ আটা কিনেছিলেন আহমেদ ডালুল। তবে ব্যাগটি ছিল পোকামাকড়ে ভরা। বিক্রেতা ব্যাগ খুলে দেখাতে অস্বীকার করায় ডালুল বাধ্য হয়ে তা কিনেন। পরে বাসায় গিয়ে নষ্ট আটা দেখে ফেরত দিতে গেলে বিক্রেতা নিতে অস্বীকৃতি জানান। ডালুল বলেন, “গন্ধটি ছিল অসহনীয়। আমি চাই না আমার সন্তানরা আবার এই বিষ খায়।”
এই করুণ চিত্র প্রতিটি গাজাবাসীর জীবনকে স্পর্শ করেছে। ৫০ বছর বয়সী জিহান আসলিম স্থানীয় একটি বেকারি থেকে রুটি কিনে খান, কিন্তু রুটির অবস্থা এতটাই নাজুক ছিল যে খাওয়ার উপায় ছিল না। তিনি বলেন, “বাজারগুলো পচা আটা দিয়ে ভরে গেছে। তবুও সেগুলো অকল্পনীয় দামে বিক্রি হচ্ছে। অথচ বিকল্প কিছু নেই।”
অনেক পরিবার ভিনেগারে রুটি চুবিয়ে দুর্গন্ধ কমিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করছেন। ৬০ বছর বয়সী ইউসরা হামাদা আক্ষেপ করে বলেন, “শুধু পেটের ক্ষুধা মেটানোর জন্য বিষাক্ত খাবার খেতে বাধ্য হচ্ছি।”
জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা (ওসিএইচএ)-এর প্রধান জোনাথন হুইটল সতর্ক করে বলেছেন, ইসরাইলের পূর্ণ অবরোধ গাজাকে ঠেলে দিয়েছে এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের দিকে। মার্চের শুরু থেকে চলা দুই মাসের অবরোধের কারণে খাদ্য, পানি ও ওষুধ সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, যা গাজাবাসীর অসীম কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে ইসরাইলি হামলায় গাজার শেষ কর্মরত বেকারিটিও ধ্বংস হয়েছে। একই সঙ্গে ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের (ডাব্লিউসিকে) মোবাইল বেকারিও বাধ্য হয়ে স্থান পরিবর্তন করেছে। বর্তমানে দিনে ১৯ ঘণ্টা কাজ করে মাত্র ৫৯ হাজার রুটি তৈরি করা হচ্ছে, যা গাজার মানুষের প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। ওসিএইচএর প্রধান শাদি বলেন, “আমরা যতটা পারছি উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছি, তবে আটা সংকটের কারণে তা সীমিত হয়ে পড়েছে।”