‘সাম্যের দেশ গড়তে আর মাইনোরিটি-মেজরিটির কথা নয়’: জামায়াত আমির
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমরা একটি সাম্যের বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা এই দেশে আর কোনো মাইনোরিটি-মেজরিটির কথা শুনতে চাই না।”
শনিবার কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে জেলা জামায়াতের বিশাল এক কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় জামায়াত আমির প্রশ্ন করেন, “কীসের মেজরিটি আর মাইনোরিটি? যাদের জন্ম বাংলাদেশে, তারা সকলেই ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে এদেশের গর্বিত নাগরিক। রাষ্ট্রের সংবিধান সকলকে সমান অধিকার দিয়েছে, এবং আল্লার সংবিধানও তাদের সমান অধিকার দিয়েছে।”
তিনি বলেন, “৫ আগস্টের আগে দেশে চাঁদাবাজি ও দখলদারি ছিল। ফুটপাত থেকে সব কিছু দখল হয়ে গিয়েছিল। এখন আর দখলদারি নেই। আমাদের সন্তানরা এই জন্য জীবন দেইনি যে, বাংলাদেশে এখনো চাঁদাবাজি চলবে। আমরা চাঁদাবাজি ও দখলদারি মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই, এবং আমরাই তা পারব, কারণ আমরা সেই দল, যাদের একজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি বা দখলদারির অভিযোগ নেই।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা সেই দল, যাদের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। কাউকে বিচারের নামে প্রহসন করে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, আবার কাউকে জেলের ভেতরে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ আমাদের থেকে বিদায় নিয়েছেন কুরআনের পাখি দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী।”
তিনি আরও বলেন, “শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর সহকর্মীদেরকে হত্যা করা হয়েছে মিথ্যা মামলায়, পাতানো ও সাজানো সাক্ষী দিয়ে। এখন মামলার বাদীরা এবং সাক্ষীরা বলছেন, যারা আমাদেরকে সেদিন জোর করে এই মামলা দায়ের করিয়েছিল, এখন তাদের বিরুদ্ধে আমরা মামলা করব। এটাই আল্লাহর খেলা।”
জামায়াত আমির বলেন, “আধুনিক রাষ্ট্রের প্রথম সংবিধান হচ্ছে মদিনার সনদ। এই সনদে ১ থেকে ৫ পর্যন্ত সকল ধর্মের মানুষের অধিকার সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। সেখানে পরিষ্কার বলা হয়েছে, ধর্মের ভিত্তিতে রাষ্ট্রের কোনো নাগরিকের অধিকার বিভক্ত করা যাবে না। বাংলাদেশ আমাদের সকলের প্রিয় জন্মভূমি। এই দেশের সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ আমাদের জনসংখ্যা। আমরা আমাদের দেশের এই জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে পরিণত করতে চাই।”
কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাওলানা আবুল হাশেমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোবারক হোসাইনসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয়, আঞ্চলিক ও জেলা নেতারা।