কানাডার নির্বাচনে নাটকীয়ভাবে জয়ী লিবারেল পার্টি, প্রধানমন্ত্রী হলেন মার্ক কার্নি - দিগন্ত জার্নাল

কানাডার নির্বাচনে নাটকীয়ভাবে জয়ী লিবারেল পার্টি, প্রধানমন্ত্রী হলেন মার্ক কার্নি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মঙ্গলবার (, ২৯ এপ্রিল ২০২৫) কানাডার নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বাধীন লিবারেল পার্টি জয় লাভ করেছে বলে জানিয়েছে কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (সিবিসি)। সোমবারের এই বিজয়ে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে লিবারেলরা। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কানাডার অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হু’ম’কির প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এ জয় তরান্বিত হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) এপি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

এদিকে, কানাডা শনিবার ভ্যাঙ্কুভারে এক মারাত্মক গাড়ি হা’মলার ঘটনার প্রভাব মোকাবিলা করছে। ওই হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে এবং এর জেরে কয়েক ঘণ্টার জন্য নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি সন্ত্রা’সী হা’মলা নয়; অভিযুক্ত ব্যক্তি স্থানীয় বাসিন্দা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল তার অতীতে।

নির্বাচনের আগে লিবারেল পার্টি বিশাল পরাজয়ের মুখে ছিল। তবে ট্রাম্প যখন কানাডার অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বের ওপর আ’ক্র’মণ শুরু করেন এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর প্রস্তাব দেন, তখন কানাডিয়ানদের মধ্যে ব্যাপক জাতীয়তাবাদী আবেগ ছড়িয়ে পড়ে। এরই ফলেই নির্বাচনের গতিপথ পাল্টে যায় এবং লিবারেলরা টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়েরে পলিয়েভ্রে চেয়েছিলেন এই নির্বাচনকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর জনপ্রিয়তা পতনের ওপর একটি গণভোটে পরিণত করতে। খাদ্য ও আবাসন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ট্রুডোর জনপ্রিয়তা অনেকটা কমে গিয়েছিল। তবে ট্রাম্পের হু’ম’কির পর ট্রুডো পদত্যাগ করেন এবং সাবেক দুইবারের কেন্দ্রীয় ব্যাংকার মার্ক কার্নি লিবারেল পার্টির নেতা হন এবং এখন কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন।

কানাডায় যেভাবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন

কানাডায় মোট ৩৪৩টি ফেডারেল আসনে ভোট হয়। ভোটাররা কেবল তাদের নিজ নিজ এলাকার প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। যে দল হাউস অব কমন্সে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাবে, সেই দলের নেতা হবেন প্রধানমন্ত্রী। যদি কোনো দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তাহলে সর্বাধিক আসন পাওয়া দল সংখ্যালঘু সরকার গঠন করে এবং বিরোধী দলের কিছু সদস্যের সমর্থনের ওপর নির্ভর করে সরকার পরিচালনা করে। কখনো কখনো একাধিক দল মিলে জোট সরকারও গঠন করতে পারে। তবে এবারের নির্বাচনে লিবারেল পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

an adbox will go here