গাজায় পরিকল্পিত গণহত্যার অভিযোগ অ্যামনেস্টির: দায় পুরোপুরি ইসরাইলের - দিগন্ত জার্নাল

গাজায় পরিকল্পিত গণহত্যার অভিযোগ অ্যামনেস্টির: দায় পুরোপুরি ইসরাইলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে, গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা চালানো হচ্ছে এবং এর শতভাগ দায় ইসরাইলের। এমনকি ‘লাইভ স্ট্রিমিং’ করে সেই গণহত্যা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থাটি।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি মঙ্গলবার অ্যামনেস্টির বার্ষিক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইল নিখুঁত পরিকল্পনার মাধ্যমে গাজাবাসীদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য করেছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে। এমনকি মনে হয়, সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করে তারা এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। অ্যামনেস্টির ভাষ্য, “ইসরাইল গাজার ফিলিস্তিনিদের নির্মূলের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে, যা গণহত্যার শামিল।” অ্যামনেস্টি ছাড়াও অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থা ও কয়েকটি দেশ একই অভিযোগ তুললেও, ইসরাইল বরাবরই গাজায় গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরাইল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। সেই হামলায় ১,২১৮ জন নিহত হন এবং ২৫১ জন জিম্মি হন। ধারণা করা হয়, এখনো ৫৮ জন গাজায় বন্দি রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩৪ জন ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন। এর পর থেকে ইসরাইলি বাহিনী গাজায় দফায় দফায় সাময়িক যুদ্ধবিরতির মাঝে চালিয়ে যাচ্ছে হামলা, যাতে এখন পর্যন্ত ৫২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অ্যামনেস্টির মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, “হামাসের নৃশংস হামলার পর পুরো বিশ্ব লাইভ স্ট্রিমিংয়ে প্রচারিত ইসরাইলি গণহত্যার দর্শক হয়ে দাঁড়িয়েছে। গোটা পরিবার, প্রজন্মের পর প্রজন্ম নিধন করা হচ্ছে, কিন্তু বিশ্ব তা থামাতে ব্যর্থ হয়েছে।” প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই অভিযানে ৯০ শতাংশ গাজাবাসী বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ ও পানির অভাবে মৃত্যুর মুখে পড়েছেন এবং এক নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয়ের শিকার হয়েছেন। অ্যামনেস্টি ২০২৪ সাল জুড়ে ইসরাইলের একাধিক যুদ্ধাপরাধের তথ্যও নথিভুক্ত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে বেসামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর সরাসরি ও মাত্রাতিরিক্ত হামলা।

an adbox will go here