সিন্ধু পানিচুক্তি নিয়ে হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের: ‘প্রাপ্য অধিকার রক্ষায় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে’ - দিগন্ত জার্নাল

সিন্ধু পানিচুক্তি নিয়ে হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের: ‘প্রাপ্য অধিকার রক্ষায় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সিন্ধু পানি বণ্টন চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির অংশ নিশ্চিত করতে সব ধরনের উপযুক্ত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে ইসলামাবাদ—এমন ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।

সোমবার (২৮ এপ্রিল) এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ভারতের সাম্প্রতিক ‘চুক্তি স্থগিত’ ঘোষণার প্রেক্ষাপটে কৌশল নির্ধারণে বৈঠকে বসে পাকিস্তান। এতে আইনমন্ত্রী, পানিসম্পদ মন্ত্রী, অ্যাটর্নি জেনারেলসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ভারতের কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের ওপর হামলার পর ভারতের পক্ষ থেকে ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। ইসলামাবাদ এ সিদ্ধান্তকে ‘শাস্তিমূলক ও বেআইনি’ বলে অভিহিত করেছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ তদন্তে অংশ নিতে প্রস্তুত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দার বলেন, “সিন্ধু পানি চুক্তি আন্তর্জাতিক আইন এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একতরফাভাবে চুক্তি স্থগিত করা চুক্তির চরম লঙ্ঘন এবং যুদ্ধ ঘোষণার শামিল।” তিনি বলেন, “পাকিস্তান ২৪ কোটির বেশি মানুষের জীবন নির্ভর করে সিন্ধু নদীর ওপর। ভারতের পানি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।”

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, চুক্তির ১২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, উভয় পক্ষ সম্মত না হলে চুক্তি বাতিল করা সম্ভব নয়। ১৯৬৯ সালের ‘ভিয়েনা কনভেনশন অন ল’ অব ট্রিটিজ’ অনুযায়ীও একতরফাভাবে আন্তর্জাতিক চুক্তি বাতিল করা যায় না। পাকিস্তান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ভারতের পদক্ষেপ কেবল ইসলামাবাদ নয়, বরং গোটা অঞ্চল—বিশেষ করে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের মতো নিচু অববাহিকার দেশগুলোর জন্যও উদ্বেগজনক। এর ফলে চীনও ব্রহ্মপুত্র নদে একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত হতে পারে, যা ভারতের জন্য বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।চুক্তি স্থগিত হলে পাকিস্তানের কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পানীয় জলের সরবরাহে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পাকিস্তান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি উত্থাপন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা দায়ের ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতা চাওয়ার পথ নিতে পারে।
অন্যদিকে কর্মকর্তারা মনে করছেন, সিন্ধু পানি চুক্তি, ১৯৭২ সালের শিমলা চুক্তি ও ১৯৪৯ সালের করাচি চুক্তির মতো কূটনৈতিক কাঠামোগুলো ভেঙে পড়লে দুই দেশের সম্পর্ক চরম বিপর্যয়ের দিকে যেতে পারে।

an adbox will go here