জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে টানা ষষ্ঠ দিনের গোলাগুলি, উত্তেজনা চরমে - দিগন্ত জার্নাল

জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে টানা ষষ্ঠ দিনের গোলাগুলি, উত্তেজনা চরমে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বুধবার, (৩০ এপ্রিল ২০২৫) জম্মু ও কাশ্মীরের পারগাওয়াল সেক্টরসহ নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় টানা ষষ্ঠ দিনের মতো গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) রাত থেকে বুধবার (৩০ এপ্রিল) ভোরের মধ্যে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক সীমান্তের ওপার থেকে ভারতীয় সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর বরাতে এনডিটিভি জানায়, মঙ্গলবার রাত থেকে ভোর পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে নওশেরা, সুন্দরবানী এবং আখনুর সেক্টরে পাকিস্তান বিনা প্ররোচনায় গুলি ছোড়ে। এতে ভারতীয় বাহিনীও পালটা জবাব দেয়। ভারত দাবি করেছে, পাকিস্তান ‘অযাচিত ছোট অস্ত্র’ ব্যবহার করেছে এবং যুদ্ধবিরতির ধারাবাহিক লঙ্ঘন করছে। ভারত সরকার বিষয়টি মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছে না এবং প্রতিবারই উপযুক্ত জবাব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

এর আগেও সোমবার (২৮ এপ্রিল) রাতে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে গুলি বিনিময় ঘটে। সেদিনও ভারত ‘পরিমিত ও কার্যকরভাবে’ জবাব দিয়েছে বলে জানায়। মূলত গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে সীমান্তে এই ধরনের গোলাগুলির ঘটনা শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে ২২ এপ্রিলের পেহেলগাঁও হামলাকে। জম্মু ও কাশ্মীরের ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে খ্যাত পেহেলগাঁও এলাকায় ছুটি কাটাতে আসা ২৬ জন পর্যটককে পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে একজন নেপালি নাগরিকও ছিলেন। সন্ত্রাসীদের হামলা প্রতিরোধে এগিয়ে আসা এক কাশ্মীরিও নিহত হন, যিনি এক সন্ত্রাসীর কাছ থেকে রাইফেল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

মর্মান্তিক এই হামলার পর ভারত সরকার কূটনৈতিকভাবে কঠোর অবস্থান নেয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘উপযুক্ত জবাব’-এর ঘোষণা দেন এবং সিন্ধু পানি চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন। ভারতীয় পক্ষের এমন পদক্ষেপকে ‘যুদ্ধের উসকানি’ বলে আখ্যা দিয়ে ইসলামাবাদ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

সিন্ধু পানি চুক্তি ঘিরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা যেমন বাড়ছে, তেমনি সীমান্তে বারবার গোলাগুলি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। যুদ্ধাবস্থা না হলেও উভয় দেশের মধ্যে এক প্রকার সামরিক ও কূটনৈতিক পাল্টাপাল্টি অবস্থান এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

an adbox will go here