আইসিজেতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলা: কঠোর ভাষায় আফ্রিকা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বুধবার, ( ৩০ এপ্রিল ২০২৫)
নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরাইলের বিরুদ্ধে করা গণহত্যা মামলার শুনানির দ্বিতীয় দিনে এক কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্র ও সহযোগিতা মন্ত্রণালয়ের প্রধান জেইন ড্যাঙ্গর। তিনি বলেন, “বিশ্বের চোখের সামনে ফিলিস্তিনিদের উপর নৃশংসতা, নিপীড়ন ও গণহত্যা চালানো হচ্ছে।”—খবর আল-জাজিরার।
জেইন ড্যাঙ্গর ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বলেন, “ইসরাইল এমনভাবে কাজ করে যাচ্ছে যেন তারা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার মানদণ্ড থেকে একধরনের ব্যতিক্রমী ছাড় পেয়ে যাচ্ছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে কেউ কোনো জবাবদিহিতা দাবি করলেই তাদের ওপর পাল্টা নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগ করা হয়।
এই শুনানিতে দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থান স্পষ্ট করে তুলে ধরে বলা হয়, গাজায় চলমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন, যার জন্য ইসরাইল দায়ী। উল্লেখযোগ্যভাবে, শুনানির দ্বিতীয় দিনেও ইসরাইল অংশ নেয়নি। মামলাটিকে পক্ষপাতদুষ্ট আখ্যা দিয়ে তারা এটি প্রত্যাখ্যান করেছে।
শুনানিতে সৌদি আরবের প্রতিনিধি মোহাম্মদ সাউদ আলনাসও অংশ নেন এবং তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজায় ইসরাইলের কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে কঠোর সমালোচনা করেন।
এদিকে, টাইমস অব ইসরাইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির উগ্র ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ এক বিতর্কিত মন্তব্যে জানান—ইসরাইল তখনই যুদ্ধ থামাবে, যখন সিরিয়া ‘ধ্বংস’ হবে, হিজবুল্লাহ ‘ভয়ংকরভাবে পরাজিত’ হবে, ইরান তার ‘পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে বাধ্য হবে’ এবং গাজার হাজার হাজার মানুষ তাদের আবাস এলাকা ছেড়ে ‘উপত্যকা থেকে সরে যাবে’।
উল্লেখ্য, সোমবার (২৮ এপ্রিল) আইসিজেতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার করা গণহত্যা মামলার শুনানি শুরু হয়, যা পাঁচদিনব্যাপী চলবে। গাজায় ইসরাইলি অভিযানে গণহত্যার অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করে দক্ষিণ আফ্রিকা।