গাজায় অনাহারে ৫৭ ফিলিস্তিনির মৃত্যু, সাহায্য পৌঁছাতে ব্যর্থ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় - দিগন্ত জার্নাল

গাজায় অনাহারে ৫৭ ফিলিস্তিনির মৃত্যু, সাহায্য পৌঁছাতে ব্যর্থ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

রবিবার, (৪ মে ২০২৫) গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের অবরোধ শুরুর পর দুই মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এ সময়ে পূর্ণ অবরোধের কারণে সেখানে অন্তত ৫৭ জন ফিলিস্তিনি অনাহারে প্রাণ হারিয়েছেন। চরম মানবিক সংকটে থাকা এই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনও কার্যকর সাহায্য পৌঁছাতে পারেনি—এমনটাই জানিয়েছে একাধিক মানবাধিকার সংস্থা ও সাহায্য সংগঠন।

কাতার বলেছে, ইসরাইলের মন্তব্যে ‘রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়িত্ববোধের অভাব’ রয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক্স প্ল্যাটফর্মে বলেন, গাজার ওপর ইসরাইলি আগ্রাসনকে ‘সভ্যতার রক্ষার’ প্রচার হিসাবে তুলে ধরা হচ্ছে, যা ইতিহাসে বহুবার স্বৈরশাসকদের কণ্ঠে শোনা গেছে—যেখানে নিরীহ জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধকে মিথ্যা ভাষায় বৈধতা দেওয়া হয়।

গাজার ফিলিস্তিনি জনগণ বর্তমানে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি—বলেন তিনি। পাশাপাশি কাতার জানায়, ইসরাইলের আগের বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করে দেশটিকে একদিকে—সভ্যতার পক্ষে, না হামাসের বর্বরতার পক্ষে—পক্ষ নেওয়ার আহ্বান জানানো অন্যায্য।

এদিকে, গাজার জন্য পাঠানো ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা’ নামের জাহাজটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটকে রয়েছে। মাল্টার উপকূলের কাছাকাছি এটি ড্রোন আক্রমণের শিকার হওয়ার পর নিরাপদ কোনো বন্দরে পৌঁছাতে পারছে না। এতে থাকা চারজন স্বেচ্ছাসেবক আহত হয়েছেন। জাহাজের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ফুরিয়ে আসছে এবং আরও হামলার আশঙ্কায় রয়েছে ক্রুরা।

জাহাজটির অন্যতম কর্মী নিকোল জেনেস বলেন, “কেউ সাহায্য করছে না। আমরা বিশ্ব সম্প্রদায়কে আমাদের কর্মীদের রক্ষা করতে আহ্বান জানাচ্ছি।” শুক্রবার ও শনিবার যারা সাহায্য পৌঁছাতে গিয়েছিলেন, তাদের মাল্টা কর্তৃপক্ষ আটকে দেয় এবং গ্রেপ্তারের হুমকি দেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা (UNRWA) জানিয়েছে, গাজা সিটিতে তাদের একটি ফিল্ড অফিসে হাজারো ক্ষুধার্ত মানুষ ঢুকে পড়ে ওষুধ এবং খাবার লুট করে নেয়। পরিস্থিতির জেরে সংস্থাটি সেখান থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছে। ইউএনআরডব্লিউএ-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লুইস ওয়াটারিজ বলেন, “এই লুটপাট কোনো অপরাধ নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অনাহারের সরাসরি প্রতিক্রিয়া।”

অবস্থার ভয়াবহতা দিন দিন বাড়ছে, আর ইসরাইলের বাধার কারণে ত্রাণ প্রবেশে সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। গাজার জনগণের বেঁচে থাকার লড়াই এখন কেবল একটি মানবিক ইস্যুই নয়, এটি বিশ্ব বিবেকের জন্য একটি কঠিন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

an adbox will go here