‘গাজার অর্ধেক বোমা ইউরোপ সরবরাহ করেছে’ — ইইউর সমালোচনায় জোসেপ বোরেল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইসরাইলের গাজা আগ্রাসনে ব্যবহৃত অস্ত্রের একটি বড় অংশ ইউরোপ থেকে সরবরাহ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাবেক পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল। তিনি বলেন, “গাজায় ফেলা অর্ধেক বোমা ইউরোপ দিয়েছে।” শুক্রবার (৯ মে) স্পেনের ইউস্তে মঠে বক্তৃতাকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। সূত্র: আনাদোলু।
কার্লোস ভি ইউরোপীয় পুরস্কার গ্রহণের পর দেওয়া বক্তব্যে বোরেল বলেন, “ইউরোপ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় জাতিগত নির্মূল অভিযান প্রত্যক্ষ করছে।” তিনি ইসরাইলি হামলার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের নির্মূল করে গাজায় ‘হলিডে রিসোর্ট’ বানানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং একে “গণহত্যা” বলে আখ্যায়িত করেন। ইইউ যে ইসরাইলি আগ্রাসন ঠেকাতে পারত, তা না করায় তিনি কড়া সমালোচনা করেন। তার মতে, ইইউ এর প্রতিরোধ করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
বোরেল আরও বলেন, “আমরা ইউরোপে অভ্যন্তরীণ শান্তি নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও, আসল চ্যালেঞ্জ হলো বাইরের বিশ্বে আমাদের অবস্থান।” তিনি ইউরোপের তরুণ প্রজন্মকে সামরিক ও আর্থিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান, না হলে ট্রাম্প বা পুতিনের মতো নেতাদের হাতে ইউরোপীয় সভ্যতার পতনের আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহে ইউরোপের ধীর পদক্ষেপকেও সমালোচনা করেন এবং বলেন, “এই দেরি রাশিয়ার আগ্রাসনের সময় ইউক্রেনের জন্য মারাত্মক ছিল।”
গাজায় অব্যাহত ইসরাইলি আগ্রাসন
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার প্রতিশোধে গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরাইল। প্রথম দফায় ৫২,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,১৮,০০০-এর বেশি আহত হয়। সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর ১৮ মার্চ থেকে ইসরাইল আবারও আগ্রাসন শুরু করলে দ্বিতীয় দফায় নিহত হয় প্রায় ২,৫০০ ফিলিস্তিনি এবং আহত হয় আরও ৫,০০০ জন।