পাঠাগার তালাবদ্ধ, স্মৃতিচিহ্ন বিলীন—অবহেলায় কবি শেখ ফজলল করিমের স্মরণস্থল - দিগন্ত জার্নাল

পাঠাগার তালাবদ্ধ, স্মৃতিচিহ্ন বিলীন—অবহেলায় কবি শেখ ফজলল করিমের স্মরণস্থল

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

মঙ্গলবার, (২০ মে ২০২৫) লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা বাজার ঘেঁষা লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের পাশেই রয়েছে কবি শেখ ফজলল করিম স্মৃতি গণপাঠাগার। ২০০৫ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠিত এ পাঠাগার এখন তালাবদ্ধ, জরাজীর্ণ ভবনটি আবর্জনার স্তূপে পরিণত, দখল ও অযত্নে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে বাংলা সাহিত্যের এক গৌরবময় কবির স্মৃতিচিহ্ন। ভবনের সামনে বসানো হয়েছে দোকানপাট, ফটকের ভেতর-বাইরে জমেছে ঝোপঝাড় ও ময়লা। ভবনের গায়ে নেই রঙের প্রলেপ, ঝুলে থাকা সাইনবোর্ডটিও মলিন।

১৮৮৩ সালের ১৪ এপ্রিল কাকিনায় জন্ম নেওয়া কবি শেখ ফজলল করিম ছিলেন ‘সাহিত্য বিশারদ’, ‘কাব্যরত্নাকার’ ও ‘নীতি ভূষণ’ উপাধিপ্রাপ্ত একজন প্রভাবশালী কবি ও সাহিত্যিক। ১৯৩৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন তিনি। কালজয়ী কবিতা ‘কোথায় স্বর্গ? কোথায় নরক?’-এর জনক এই কবির স্মৃতি রক্ষায় নির্মিত পাঠাগারটি বর্তমানে অচল অবস্থায় পড়ে আছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, পাঠাগারের পাশ দিয়ে মহাসড়ক থেকে কিছুটা ভেতরে গেলে পাওয়া যায় কবির নিজ বাড়ি। সেখানে কবির ব্যবহৃত খাট, চেয়ার, দোয়াত-কলম, ছোট্ট কুরআন শরিফ, ম্যাগনিফায়িং গ্লাস, বোতাম ও টুপি সংরক্ষিত আছে একটি টিনশেডের ঘরে। তবে এগুলোও যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে প্রায় ধ্বংসপ্রায়। কবির কোনো স্মৃতি দর্শনের জন্য নেই বসার স্থান, নেই নিয়মিত খোলার ব্যবস্থাও। শুধুমাত্র জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে খুলে দেওয়া হয় কবির কক্ষটি।

স্থানীয়রা বলছেন, পাঠাগারটি একসময় খোলা থাকলেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে সেটি আবার বন্ধ হয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, পাঠাগারের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে থাকা কাকিনা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগপন্থী সাবেক চেয়ারম্যান তাহির তাহু ১৬ বছরে কোনো উদ্যোগ নেননি, বরং কবিপরিবারের প্রতি ছিলেন বিরূপ। এলাকাবাসীর দাবি, এই পাঠাগার ও কবি বাড়িকে কেন্দ্র করে স্মৃতিসংগ্রহশালা ও একটি জাদুঘর নির্মাণ করা দরকার।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কবির নাতির সন্তান শেখ ফিরোজ বলেন, ‘তিন প্রজন্ম চলে গেছে, আমরা আর পারছি না স্মৃতি রক্ষা করতে। সরকার যদি এগিয়ে না আসে, তাহলে হয়তো সবই হারিয়ে যাবে।’ তিনি পাঠ্যবইয়ে পুনরায় কবির বিখ্যাত কবিতা অন্তর্ভুক্তির দাবিও জানান।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি নিজেও বইপ্রেমী। এখানে নতুন আসছি, পাঠাগার বিষয়ে জেনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কবির বাড়ির গেট নির্মাণের আবেদন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

সরকারি পদক্ষেপ ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে কবি শেখ ফজলল করিমের স্মৃতিচিহ্ন আজ অবহেলার অতলে তলিয়ে যাচ্ছে। এখনই যথাযথ উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্য

an adbox will go here