ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ‘গণহত্যা অব্যাহত রাখবে’—হামাসের অভিযোগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
প্রকাশ – ৩০ মে ২০২৫
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ বন্ধে যে প্রস্তাব দিয়েছে, তাকে ‘গাজায় হত্যা ও দুর্ভিক্ষের ধারাবাহিকতা’ হিসেবে দেখছে হামাস। যদিও প্রস্তাবটি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। হোয়াইট হাউজের জনসংযোগ কর্মকর্তা ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ইসরায়েল প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছে এবং ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ সেটি হামাসের কাছে জমা দিয়েছেন। তবে প্রস্তাবের বিস্তারিত এখনও প্রকাশ হয়নি।
হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাইম বলেছেন, “এই চুক্তি আমাদের জনগণের কোনো দাবিই পূরণ করে না। সবচেয়ে বড় দাবি—যুদ্ধবিরতি—সেটি নেই।” আরেক জ্যেষ্ঠ হামাস নেতা সামি আবু জুহরি বলেন, “ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার বা মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর বিষয়ে কোনো স্পষ্টতা নেই।”
ইসরায়েল সরকার এখনো প্রস্তাবের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। তবে নেতানিয়াহু জিম্মিদের স্বজনদের জানিয়েছেন, তিনি প্রস্তাবটি মেনে নিতে প্রস্তুত আছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক আকিভা এলদার বলেন, “নেতানিয়াহু হয়তো জানেন, হামাস এই প্রস্তাব মানবে না। এভাবে তিনি আন্তর্জাতিক পরিসরে হামাসকে ‘খলনায়ক’ হিসেবে চিত্রিত করতে চান।”
সপ্তাহের শুরুতে হামাস দাবি করেছিল, তারা উইটকফের সঙ্গে একটি ‘সাধারণ রূপরেখা’ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে, যাতে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, সেনা প্রত্যাহার এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার কথা ছিল।তবে পরে উইটকফ সেই দাবিগুলো অস্বীকার করে বলেন, “সেসব শর্ত পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।”
গভীর মতপার্থক্য থেকেই যুদ্ধবিরতির চেষ্টাগুলো বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। ইসরায়েলের শর্ত—হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র হতে হবে। অন্যদিকে হামাসের প্রধান দাবি—ইসরায়েলি সেনাদের গাজা থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার। যুদ্ধবিরতি নিয়ে উভয় পক্ষের অবস্থান এখনো বিপরীত মেরুতে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।