বিশ্বব্যাপী খাদ্যের দাম ০.৮ শতাংশ কমেছে: এফএও - দিগন্ত জার্নাল

বিশ্বব্যাপী খাদ্যের দাম ০.৮ শতাংশ কমেছে: এফএও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

রোববার, (৯ জুন ২০২৫) জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, চলতি বছরের মে মাসে বিশ্বব্যাপী খাদ্যের দাম এপ্রিলের তুলনায় ০.৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই পতনের পেছনে মূলত উদ্ভিজ্জ তেল, শস্য ও চিনির দাম কমে যাওয়াই দায়ী।

এফএও’র ফুড প্রাইস ইনডেক্স অনুসারে, মে মাসে খাদ্যমূল্য সূচক দাঁড়িয়েছে ১২৭.৭ পয়েন্টে, যা এপ্রিলের ১২৮.৭ পয়েন্ট থেকে কম। যদিও এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি, তবে ২০২২ সালের মার্চে ইউক্রেন যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে যে সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছিল, তার তুলনায় এটি প্রায় ২০ শতাংশ কম।

দাম কমেছে যেসব পণ্যের:

শস্য: মে মাসে শস্যের দাম ১.৮ শতাংশ কমেছে। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলে ভালো ভুট্টার ফলন এবং গমের চাহিদা হ্রাসের প্রভাব স্পষ্ট। সরগম ও বার্লির দামও নিম্নমুখী।

উদ্ভিজ্জ তেল: দাম কমেছে ৩.৭ শতাংশ। পাম, রেপসিড, সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলের সরবরাহ বেড়ে যাওয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চাহিদা কমে যাওয়াই প্রধান কারণ।

চিনি: দাম হ্রাস পেয়েছে ২.৬ শতাংশ। খাদ্য ও পানীয় প্রক্রিয়াজাত শিল্পে চাহিদা কমে যাওয়া এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা এ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে।

দাম বেড়েছে যেসব পণ্যের:

মাংস: ১.৩ শতাংশ দাম বেড়েছে। গরু, খাসি ও শুকরের মাংসের চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি জার্মানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়াও একটি কারণ। তবে বার্ড ফ্লুর কারণে মুরগির মাংসের চাহিদা কমেছে।

দুগ্ধজাত পণ্য: দাম বেড়েছে ০.৮ শতাংশ। এশিয়ায় চাহিদা বৃদ্ধির ফলে মাখনের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, ফলে পনির ও গুঁড়ো দুধের দামও বেড়েছে।

চাল: ইন্দিকা চালের চাহিদা ও ডলারের মূল্যহ্রাসের কারণে চালের দাম কিছুটা বেড়েছে, যদিও এটি সামগ্রিক সূচকে তেমন প্রভাব ফেলেনি।

এফএও’র পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী শস্য উৎপাদন ২.৯১১ বিলিয়ন টনে পৌঁছাতে পারে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২.১ শতাংশ বেশি। এতে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং মূল্য হ্রাস ভোক্তাদের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসতে পারে।

an adbox will go here