পারমাণবিক উত্তেজনায় ইরান–আইএইএ টানাপোড়েন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
শনিবার (২৮ জুন ২০২৫)
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জেরে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)–এর সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করেছে ইরান। ফলে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তেহরান অভিযোগ করেছে, হামলার সময় আইএইএ কোনো কার্যকর ভূমিকা নেয়নি এবং একটি রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
২০১৫ সালের চুক্তির পর ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম তদারক করত আইএইএ। তবে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালে চুক্তি বাতিল করার পর ইরান আবার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা শুরু করে। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটি ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, যা অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র তিনটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় ‘ম্যারাথন বোমা হামলা’ চালায়। পেন্টাগনের দাবি, হামলায় অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে, তবে ইউরেনিয়াম মজুদ ও সেন্ট্রিফিউজ অনেকটাই অক্ষত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলছেন, ইরানের কর্মসূচি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তবে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইরান মাত্র কয়েক মাস পিছিয়ে গেছে।
এর মধ্যেই জানা গেছে, ইরান একটি নতুন, গোপন পারমাণবিক স্থাপনা নির্মাণ করেছে—যার অবস্থান অজানা। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এই ধরনের গোপন স্থাপনাই বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
আইএইএ বলছে, তারা আবার ইরানে ফিরে কাজ শুরু করতে চায়। মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি বলেন, “এখন কূটনৈতিক সমাধানের একটি সুযোগ আছে, তা নষ্ট করা ঠিক হবে না।”
অন্যদিকে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে। জেনেভা কনভেনশনের আওতায় পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি আইএইএ থেকে দূরে থাকে ও গোপনে কার্যক্রম চালায়, তাহলে ভবিষ্যতে তারা আরও দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোতে পারে। উত্তর কোরিয়ার অভিজ্ঞতা থেকেই হয়তো তেহরান এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে—কারণ অস্ত্র থাকলেই আক্রমণের ভয় কমে।
যদিও যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর, তবু কূটনৈতিক সমাধান সহজ হবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—ইরানের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম কোনোভাবেই চলতে দেওয়া হবে না। আর ইরান তাদের পরমাণু অধিকার ছাড়তে নারাজ।