ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলের ভাইসমান ইনস্টিটিউট ধ্বংস, গবেষণাক্ষেত্রে অপূরণীয় ক্ষতি - দিগন্ত জার্নাল

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলের ভাইসমান ইনস্টিটিউট ধ্বংস, গবেষণাক্ষেত্রে অপূরণীয় ক্ষতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বৃহস্পতিবার (০৩ জুলাই ২০২৫), ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলের বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক ও সামরিক গবেষণাগার ভাইসমান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। তেল আবিবের দক্ষিণে রিহবেত শহরে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটিকে কেন্দ্র করে বহু সামরিক ও কৌশলগত গবেষণা পরিচালিত হতো। ১৫ জুন চালানো এই হামলাকে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘ভুল করে আক্রমণ’ নয়, বরং ‘সুনির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ইরানের সরকারি টেলিভিশন প্রেস টিভি জানায়, সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত এই প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৯০ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির আনুমানিক পরিমাণ ৩০০ থেকে ৫৭০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত।

গবেষণাগার ধ্বংস, দুই দশকের গবেষণার অপচয়

ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট আলোন চেন ইসরাইলি চ্যানেল ১৩–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই হামলার ব্যাপকতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “এটি অপূরণীয় ক্ষতি। একাধিক ভবনে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে আঘাত হানা হয়েছে। আমাদের প্রাথমিক মূল্যায়নে শত শত মিলিয়ন ডলারের ক্ষতির ইঙ্গিত মিলেছে।” বিশেষ করে কার্ডিয়াক রিজেনারেশন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এলদাদ জাহর এর ২২ বছরের গবেষণার ফল—হাজারো হৃৎপিণ্ড টিস্যু, ডিএনএ-আরএনএ নমুনা, ল্যাবে তৈরি ভাইরাস—সবই ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া একটি নতুন রাসায়নিক গবেষণাগার, যা ২০২৫ সালের শুরুতে চালু হওয়ার কথা ছিল, সেটিও পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।

৪৫টি ল্যাব বিধ্বস্ত, শত শত গবেষক ক্ষতিগ্রস্ত

প্রেস টিভির বরাতে জানা যায়, হামলায় ইনস্টিটিউটের প্রায় ৪৫টি ল্যাব ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জীবনবিজ্ঞান, অণুজীববিজ্ঞান ও স্নায়ুবিজ্ঞানের গবেষণাগার। ৪০০ থেকে ৫০০ গবেষক এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বহু অমূল্য গবেষণা সেল লাইন, টিস্যু স্লাইড ও অ্যান্টিবডি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়েছে।
প্ল্যানেটারি সায়েন্সেস ভবন—যেখানে ভূ-রসায়নসহ পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা হতো—পার্শ্ববর্তী ভবনে আঘাত করা ক্ষেপণাস্ত্রের শকওয়েভে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তথ্য গোপন রাখছে ইসরাইল

ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এই ধ্বংসযজ্ঞের ছবি ও ভিডিও প্রকাশে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, যাতে ভবিষ্যতে ইরান এসব স্থাপনায় পুনরায় আঘাত করতে না পারে। তবে কিছু ছবি ও ভিডিও ইতোমধ্যেই অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ইরানের হামলায় ইসরাইলের চরম ক্ষতির প্রমাণ বহন করে।

বিশেষ লক্ষ্যবস্তু ছিল ইনস্টিটিউট

ইসরাইলি সামরিক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বায়োটেকনোলজি ও পদার্থবিদ্যার মূল গবেষণাকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত ভাইসমান ইনস্টিটিউট এই হামলার অন্যতম টার্গেট ছিল। ইরানের এই আঘাত ইঙ্গিত দেয় যে, তারা শুধু সামরিক নয়, বৈজ্ঞানিক সক্ষমতাকেও চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত।

an adbox will go here