নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি: যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হামাসকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করার অঙ্গীকার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বৃহস্পতিবার (০৩ জুলাই ২০২৫), ইসরাইল ও হামাসের চলমান যুদ্ধবিরতির আলোচনা যখন একটি সম্ভাব্য সমাধানের দিকে এগোচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক চরম বার্তা দিয়েছেন। বুধবার তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা আমাদের সব জিম্মিকে মুক্ত করব এবং হামাসকে ধ্বংস করব। তাদের আর কোনো চিহ্ন থাকবে না।”
আশকেলনে একটি পাইপলাইন স্থাপন প্রকল্প পরিদর্শনকালে ভিডিও বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেন নেতানিয়াহু। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইসরাইল একটি ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। যদিও নেতানিয়াহু সরাসরি এই বিষয়ে কিছু বলেননি, তবে তার ঘোষণায় যুদ্ধ থামানোর আশা ও কঠোর সামরিক অবস্থানের দ্বৈত বার্তা স্পষ্ট।
অন্যদিকে হামাস জানিয়েছে, কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় পাওয়া নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে তারা ‘জাতীয় পরামর্শ’ করছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, “আমরা এমন একটি চুক্তি চাই যা আগ্রাসন বন্ধ করবে, গাজা থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার নিশ্চিত করবে এবং আমাদের জনগণের জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করবে।”
২১ মাস ধরে চলমান এই যুদ্ধে গাজার ২০ লাখেরও বেশি মানুষের মানবিক অবস্থা চরমভাবে অবনতি ঘটেছে। ইসরাইলি বাহিনী গাজার উত্তরাঞ্চলে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করেছে। গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি জানিয়েছে, শুধু বুধবারেই ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানির সংখ্যা ৫৭ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
আগামী ৭ জুলাই ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর একটি বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠকে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা, হামাসের ভবিষ্যত এবং জিম্মি মুক্তি পরিকল্পনাই মূল আলোচনার বিষয় হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নেতানিয়াহুর এই ঘোষণার ফলে যুদ্ধবিরতির আলোচনাগুলো জটিল হতে পারে। কারণ মধ্যস্থতাকারীদের বিশ্বাসযোগ্যতা ও আলোচনার প্রতি পক্ষগুলোর আস্থা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তা সত্ত্বেও, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে এবং বিশ্বজুড়ে চাপ বাড়ছে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে।