গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি আটকে গেল, রক্তক্ষয়ী হামলায় নিহত ১০৫
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই ২০২৫), গাজায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি চুক্তি নিয়ে কাতারে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনা স্থগিত হয়ে গেছে। তিন দিন ধরে চলা এ আলোচনায় শুরুতে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি দেখা গেলেও শেষ মুহূর্তে ভেঙে পড়ে সবকিছু। মূল বিরোধ দেখা দেয় যুদ্ধবিরতিকালে ত্রাণ বিতরণ এবং গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানান, ইসরায়েল মানবিক সহায়তা প্রবেশে জাতিসংঘ অনুমোদিত ব্যবস্থার বদলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত ‘গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন’ (জিএইচএফ) ব্যবহার করতে চায়, যা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি। এই ফাউন্ডেশনের গুলিতে ইতোমধ্যে ৭৭৩ ত্রাণ প্রত্যাশী নিহত হয়েছেন, আহত ৫ হাজারের বেশি।
এ আলোচনা স্থগিত হওয়ার সময়েই যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় বৈঠকও হয়েছে। যদিও ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানান, আলোচনায় এখন কেবল একটি অমীমাংসিত ইস্যু রয়ে গেছে, এবং ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয়ে তাঁরা আশাবাদী।
ইসরায়েল জানায়, হামাসের হাতে এখনও ৫০ জন জিম্মি রয়েছে, যাদের মধ্যে ২০ জনের জীবিত থাকার সম্ভাবনা আছে। নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা পিছু হটছি না, আমাদের সেনাদের সামরিক চাপেই মুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।”
রক্তক্ষয়ী বুধবার: নিহত ১০৫, আহত ৫৩০
আলোচনার অচলাবস্থার মধ্যে গতকাল বুধবার গাজায় ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলায় নিহত হয়েছেন ১০৫ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন আরও ৫৩০ জন। নিহতদের মধ্যে অন্তত আটজন ত্রাণ নিতে আসা সাধারণ মানুষ। গত ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া এ দমন অভিযানে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৫৭ হাজার ৬৮০ জন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪০৯ জন।
হাসপাতালগুলোতে মৃত্যু থামছে না
গাজায় অবরোধের কারণে জ্বালানি প্রবেশ বন্ধ থাকায় হাসপাতালগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। অস্ত্রোপচারের ওষুধ নেই, জরুরি পরিষেবা ব্যাহত। জাতিসংঘ অবিলম্বে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। গাজার চিকিৎসক ডা. মারওয়ান আল-হামস বলেন, “জ্বালানি না এলে শত শত রোগী চোখের সামনে মারা যাবে।”