‘মুজিববাদী সংবিধান বাতিলের’ দাবিতে রাঙামাটি থেকে উঠে আসা এক কণ্ঠ
দিগন্ত জার্নাল | ২০ জুলাই ২০২৫
২০২৪ সালের উত্তাল জুলাই—যখন পুরো দেশ উত্তপ্ত ছিল কোটা সংস্কার আন্দোলনের দাবিতে, তখন পাহাড়ের বুকেও প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল আরেকটা ঐতিহাসিক দাবি। রাঙামাটিতে দাঁড়িয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম একটি ভিন্নতর কিন্তু সমান্তরাল বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। তাঁর ভাষণে সেদিন উঠে এসেছিল এক যুগান্তকারী দাবি—“মুজিববাদী সংবিধান বাতিল করতে হবে”।
সেদিনের সমাবেশের প্রত্যক্ষদর্শীরা আজও স্মরণ করেন সেই দৃপ্ত উচ্চারণ:
“মুজিববাদী সংবিধানে এ দেশের সব জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করা হয়নি। সেই কারণেই মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার মতো নেতারা প্রতিবাদ করেছিলেন। এখন আমাদের সময়—নতুন বাংলাদেশের নতুন সংবিধান চাই।”
এটি ছিলো কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য নয়—বরং একটি ঐতিহাসিক আহ্বান। তিনি পাহাড় ও সমতলের জনগণের মধ্যে বিভাজন দূর করে ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণের লক্ষ্যে পথচলার ডাক দিয়েছিলেন।
নাহিদের বক্তব্যে ছিলো অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রচিন্তার একটি সাহসী অভিব্যক্তি। তিনি বলেছিলেন—
“আমরা চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, মুসলিম, হিন্দু—সব জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে একসঙ্গে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।”
তার পাশে দাঁড়িয়ে সমাবেশে একে একে বক্তব্য রেখেছিলেন সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, ডা. তাসনিম জারা ও সামান্তা শারিমনের মতো নেতারাও। পাহাড়ে দুর্নীতিবাজদের নির্বাসনস্থল বানানো, বৈষম্য, জাতিগত অবহেলা—সবকিছু নিয়ে উঠেছিলো ক্ষোভের ঝড়।
একটা স্লোগান, একটাই স্বপ্ন: নতুন সংবিধান, নতুন বাংলাদেশ
২০২৪ সালের সেই দিনগুলো এখন ইতিহাস। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় পাতায় লেখা রইল নাহিদ ইসলামের সেই প্রতিবাদ, রাঙামাটির সেই পদযাত্রা, সংবিধান সংস্কারের সেই সাহসী কণ্ঠ।
আজ ২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে যখন আমরা পেছনে তাকাই, তখন স্পষ্ট হয়ে ওঠে—সেদিনের সেই প্রতিবাদ শুধু পাহাড়েই নয়, পুরো জাতির ভিতরে জন্ম দিয়েছিল নতুন চিন্তার স্ফুলিঙ্গ।