ভালুকায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ
ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
শনিবার, ২৩ জুলাই ২০২৫| ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের পাঁচগাঁও সানরাইজ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ মো. আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যসহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে—ঘুষ গ্রহণ, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, জমি আত্মসাৎ ও হয়রানিমূলক মামলার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের দমনের চেষ্টা করেছেন তিনি। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং তাঁরা প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেছেন।
🧾 নিয়োগে ঘুষ গ্রহণের বিস্তৃত অভিযোগ
জানা গেছে, বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক, পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও আয়া—এই তিনটি পদে জনবল নিয়োগে মোটা অঙ্কের ঘুষ লেনদেন হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে:
- অফিস সহায়ক পদে প্রার্থী গোলাম রব্বানী (রুন্টি) থেকে ৫ লক্ষ টাকা,
- পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে লতিফের কাছ থেকে ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা,
- আয়া পদে রিমার কাছ থেকে ৮ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক শাহ মো. আব্দুল মতিন ও সংশ্লিষ্ট স্কুল কমিটির সভাপতি আবু হানিফ, সদস্য বুলবুল ইসলাম ও ফেরদৌস কবির।
এছাড়াও স্থানীয় বাসিন্দা শুক্কুর আলীর কন্যাকে আয়া পদে নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
🔍 অভিযোগ তদন্ত ও আংশিক অর্থ ফেরত
ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তৎকালীন ইউএনও আলীনূর খান বিষয়টি তদন্ত করেন। তদন্তে প্রমাণ মিললে প্রধান শিক্ষককে অর্থ ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, সেই নির্দেশের পর শাহ আব্দুল মতিন মাত্র ১ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকা ফেরত দেন শুক্কুর আলীকে। বাকি টাকা চাইতে গেলে শুক্কুর আলীকে হুমকি ও হয়রানি করা হয়।
🧱 স্কুলের জমি আত্মসাৎ ও মামলা দিয়ে হয়রানি
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের জমি আত্মসাতের সঙ্গেও জড়িত এই প্রধান শিক্ষক। ভুক্তভোগীদের দাবিতে তিনি বিরক্ত হয়ে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। একজন শিক্ষক যখন নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে দিতে চান, তখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ন্যায়বিচার হারিয়ে যায় বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল।
🧑🏫 প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য ও পুলিশি পদক্ষেপ
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক শাহ মো. আব্দুল মতিন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন,
“ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
এ বিষয়ে ভালুকা মডেল থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন:
“অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
📢 অপসারণ ও শাস্তির দাবি
স্থানীয়রা মনে করছেন, একজন দুর্নীতিবাজ শিক্ষকের হাতে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলে জাতি গঠনের মূল ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। তারা অবিলম্বে শাহ মো. আব্দুল মতিনকে প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে অপসারণ এবং তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।