দশমিনায় ভিডব্লিউবি সহায়তায় নাম অন্তর্ভুক্তিতে চরম অনিয়মের অভিযোগ
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
৩ থেকে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে নাম তালিকায়, তদন্তের আশ্বাস ইউএনওর
রোববার,২৭ জুলাই ২০২৫ | বরিশালের দশমিনা উপজেলায় সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি “ভিডব্লিউবি (VWB)”-এর আওতায় দুস্থ নারীদের খাদ্য সহায়তার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সুফলভোগী হতে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায় করা হয়েছে। বিষয়টি ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
ভিডব্লিউবি: নতুন নামে পুরনো সহায়তা
২০২২ সালের ১৬ অক্টোবর সরকার ভিজিডি কর্মসূচির পরিবর্তে ভিডব্লিউবি (Vulnerable Women Benefit Programme) নামে নতুন পরিপত্র অনুমোদন দেয়। মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের আওতায় বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে দরিদ্র উপজেলা হিসেবে চিহ্নিত দশমিনার ৩৮৭২ জন দুস্থ নারীকে মাসে ৩০ কেজি চাল সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এই সুযোগে উপজেলার ৭৭০৩ জন নারী অনলাইনে আবেদন করেন। ইউনিয়নভিত্তিক আবেদন সংখ্যা হলো:
- সদর: ১৭৫৮
- রনগোপালদী: ১১৪৭
- বাঁশবাড়িয়া: ১২১৬
- বহরমপুর: ৯৯৯
- বেতাগী-সানকিপুর: ১০৮৩
- আলীপুরা: ১০৮৫
- চরবোহান: ৪১৫
ঘুষের অভিযোগ: টাকা নিয়ে তালিকায় নাম!
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দ্বিগুণ সংখ্যক আবেদন থেকে নাম তালিকায় রাখতে হলে ইউপি সদস্য, উদ্যোক্তা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতে হয়েছে। কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতি সুফলভোগীর নামের জন্য ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।
একজন ট্যাগ অফিসার (নাম গোপন) জানান, “মেম্বার ও উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে সচিবরা টাকা নিয়েছেন, পরে দপ্তরে বণ্টন হয়। প্রায় সব ইউনিয়নে একই অনিয়ম হয়েছে।”
ঘটনার জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে ইউএনওর দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগও জমা পড়ে।
প্রশাসনের অবস্থান: অনিয়মে ছাড় নয়
উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা জেসমিন আকতার বলেন, “ইউপি সদস্যদের টাকা নেওয়ার কথা শুনেছি, কিন্তু এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইরতিজা হাসান জানান, “ইউনিয়ন পর্যায়ে যাচাই শেষ, উপজেলা পর্যায়ের যাচাই এখনও চলমান। অনিয়ম হলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমি অন্যায়কে প্রশ্রয় দিই না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ভিডব্লিউবি তালিকা যেন স্বচ্ছ থাকে, সেজন্য আগেই সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করা হয়েছিল।”
তথ্যসূত্র: উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সূত্র ও অনলাইন আবেদনভিত্তিক তথ্য