যুদ্ধবিরতি নিয়ে বিকৃত তথ্যের অভিযোগ হামাসের, যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা আক্রমণ - দিগন্ত জার্নাল

যুদ্ধবিরতি নিয়ে বিকৃত তথ্যের অভিযোগ হামাসের, যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা আক্রমণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

‘ইসরাইলি সরকারই প্রধান বাধা’— ট্রাম্প-উইটকফের বক্তব্যকে হামাসের কঠোর প্রত্যাখ্যান

রোববার, ২৭ জুলাই ২০২৫ | গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতির আলোচনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান বিকৃতভাবে উপস্থাপন করার অভিযোগ এনেছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। তারা অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয় সত্ত্বেও আলোচনায় প্রহসন করছে এবং মূল বাধাকে আড়াল করছে।

শনিবার (২৬ জুলাই) মেহর নিউজের এক প্রতিবেদনে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ইজ্জাত আল-রিশকের বিবৃতি তুলে ধরা হয়।

‘আমরা স্তব্ধ’: ট্রাম্প-উইটকফের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা

হামাস নেতা ইজ্জাত আল-রিশক বলেন—

“মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার বিশেষ দূত উইটকফের বক্তব্যে আমরা স্তব্ধ। এই মন্তব্যগুলো মধ্যস্থতাকারীদের মূল্যায়নের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং হামাসের অবস্থান বিকৃতভাবে তুলে ধরছে।”

ট্রাম্প শুক্রবার হামাসকে যুদ্ধবিরতির ভাঙনের জন্য দায়ী করে বলেছিলেন—

“এই গোষ্ঠী এখন শিকার হবে।”

এর আগেই বৃহস্পতিবার উইটকফ অভিযোগ করেন, হামাসের মধ্যে ‘‘যথেষ্ট সদিচ্ছা নেই’’। ফলে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় সম্পৃক্ততা হ্রাস করছে।

‘আমরা গঠনমূলক, নেতানিয়াহুর সরকারই বাধা’

রিশক বলেন—

“হামাসের অবস্থান যে গঠনমূলক ও ইতিবাচক, তা কাতার ও মিশরের মতো মধ্যস্থতাকারীরাও স্বীকার করেছে। মার্কিন বক্তব্যগুলো বাস্তবতা থেকে বিচ্যুত এবং ইসরাইলি নেতানিয়াহু সরকারের বাধাকে ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করছে।”

তিনি জানান, হামাস যুদ্ধ থামানো ও মানবিক বিপর্যয় লাঘবের জন্য শুরু থেকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে।

‘চুরি’ অভিযোগ ভিত্তিহীন, দায়ভার ইসরাইলের ওপর

গাজায় মানবিক সহায়তা চুরির অভিযোগ নিয়ে রিশক বলেন—

“যুক্তরাষ্ট্র যে অভিযোগ এনেছে, তা ভিত্তিহীন। রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, গাজায় সহায়তা চুরির ১৫৬টি ঘটনার মধ্যে অন্তত ৪৪টি ইসরাইলি সামরিক অভিযানের ফল।”

তিনি আহ্বান জানান—

“যুক্তরাষ্ট্র যেন ইসরাইলি আগ্রাসনের দায় এড়ানোর পথ বন্ধ করে, রাজনৈতিক ও সামরিক সহায়তা বন্ধ করে বাস্তব চাপ প্রয়োগ করে যেন যুদ্ধ থামে ও বন্দি বিনিময় চুক্তি হয়।”

আলোচনায় অগ্রগতি নেই, পরস্পরকে দোষারোপ

কাতারে পরোক্ষভাবে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলছে, কিন্তু এখনো কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি। ইসরাইল হামাসকে আলোচনায় বিলম্বের জন্য দোষারোপ করছে, তবে হামাস বলছে—

“ইসরাইলই মূল বাধা, কারণ তারা একটি টেকসই যুদ্ধবিরতির শর্ত মানতে রাজি নয়।”

বন্দি বিনিময় ও শর্তাবলি: মুখোমুখি দুই অবস্থান

প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বন্দি বিনিময়

  • ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার সময় আটক ২৫১ ইসরাইলির মধ্যে এখনো ৪৯ জন হামাসের হাতে বন্দি
  • ইসরাইলি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে ২৭ জন ইতিমধ্যে নিহত হয়েছেন

ইসরাইলের দাবি: হামাসের সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামো বিলুপ্ত করতে হবে। হামাসের জবাব:

  • যুদ্ধ স্থায়ীভাবে থামাতে হবে
  • ইসরাইলকে গাজা থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে
  • অবাধ মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে

ইসরাইল বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের হালনাগাদ প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, তবে বাস্তবে কোনো সম্মতিসূচক চুক্তি এখনও হয়নি

তথ্যসূত্র: মেহর নিউজ, রয়টার্স

an adbox will go here