“বাংলাভাষী মানেই বাংলাদেশি নয়” বললেন— ভারতীয় মুসলিম নেতা ওয়াইসি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫ | আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW) অভিযোগ করেছে, কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই ভারতে বসবাসরত হাজারো বাংলাভাষী মুসলমানকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
বিষয়টি নিয়ে এবার মুখ খুললেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (AIMIM) প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। তিনি এ ধরণের আটক ও পুশব্যাককে ‘অবৈধ’ ও বৈষম্যমূলক বলে আখ্যায়িত করেছেন।
ওয়াইসি বলেন, “বাংলাভাষী মানেই বাংলাদেশি নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দরিদ্র শ্রেণির বাংলাভাষী মুসলমানদের বেআইনিভাবে আটক করা হচ্ছে। অথচ এদের অধিকাংশই ভারতীয় নাগরিক। এরা নির্মাণশ্রমিক, সাফাইকর্মী, রাস্তায় আবর্জনা তোলার কাজ করে জীবিকা চালান। পুলিশের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মত ক্ষমতা তাদের নেই— সেই দুর্বলতাকে প্রশাসন ব্যবহার করছে।”
শনিবার এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ একাধিক পোস্টে ওয়াইসি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন,
“এই সরকার শক্তের কাছে দুর্বল আর দুর্বলের কাছে শক্ত। এ ধরনের পদক্ষেপ ‘ব্যাকডোর এনআরসি’-র চেষ্টা।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিচ্ছিন্ন কয়েকটি অপরাধের ঘটনা তুলে ধরে হাজার হাজার নিরীহ মানুষের নাগরিকত্বে সন্দেহ তোলা এবং তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া নৈতিক লঙ্ঘন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ওয়াইসি গুরুগ্রামের জেলা প্রশাসকের এক নির্দেশনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন, যেখানে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠাতে এসওপি অনুসরণে বলা হয়েছিল। ওয়াইসির বক্তব্য, “শুধু কেউ বাংলা ভাষায় কথা বলেন বলে তাকে গ্রেফতার করা যায় না। ভাষাভিত্তিক গ্রেফতার বেআইনি।”
সম্প্রতি পুনে শহরের রেড লাইট এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচ বাংলাদেশি নারীকে গ্রেফতার করেছে— যারা জাল পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগ। পুলিশের দাবি, তারা মানবপাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পতিতাবৃত্তির পথে চলে গিয়েছিলেন।
তবে ওয়াইসির প্রশ্ন, “এই ধরনের বিচ্ছিন্ন ঘটনার সুযোগ নিয়ে কীভাবে গোটা সম্প্রদায়কে অবৈধ ঘোষণা করে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়?”
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পর্যবেক্ষণে, এসব অভিযানে কোনও সঠিক যাচাই-বাছাই বা আইনি সুযোগ না দিয়েই লোকজনকে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। যাদের অনেকেই আদতে ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর প্রকৃত নাগরিক।