পুলিশ একাডেমি থেকে ডিআইজি এহসানুল্লাহ'র রহস্যজনক পলায়ন - দিগন্ত জার্নাল

পুলিশ একাডেমি থেকে ডিআইজি এহসানুল্লাহ’র রহস্যজনক পলায়ন

ডিআইজি, এহসানুল্লাহ, পুলিশ, একাডেমি, সারদা, রাজশাহী পুলিশ, বিচারবহির্ভূত, হত্যা, ক্রসফায়ার, বাংলাদেশ, , পুলিশ, সদর, দপ্তর, তদন্ত ,কমিটি

পুলিশ একাডেমি থেকে পালালেন ডিআইজি এহসানুল্লাহ, তদন্তে নেমেছে সদর দপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ৩১ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদা থেকে রহস্যজনকভাবে পালিয়েছেন পুলিশ ডিআইজি (ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল) এহসানুল্লাহ। বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকাল থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনাটি জানাজানি হতেই রাজশাহী ও পুলিশ মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও ক্রসফায়ারের অভিযোগে তাকে আটক করার জন্য ঢাকা থেকে একটি বিশেষ টিম বুধবার সকালেই একাডেমিতে অভিযান চালায়। কিন্তু তখনই ডিআইজি এহসানুল্লাহ কর্মস্থল থেকে রহস্যজনকভাবে পালিয়ে যান।

ঘটনার পূর্বাপর

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, টিমের আসার আগেই খবর পেয়ে ডিআইজি এহসানুল্লাহ একটি মোটরসাইকেলে চড়ে একাডেমি প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আগেই জানতেন তাকে গ্রেফতার করার আদেশ জারি হয়েছে। পরে সারাদিন ধরে রাজশাহীর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হলেও রাত অবধি তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির পুলিশ সুপার (প্রশাসন) সাইফুল ইসলাম বলেন, “ডিআইজি এহসানুল্লাহ বুধবার থেকে একাডেমিতে অনুপস্থিত। ঢাকা থেকে একটি টিম এসেছিল, আমরা শুনেছি তাকে আটক করার জন্য আসেন তারা। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।”

বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ

ডিআইজি এহসানুল্লাহ এর বিরুদ্ধে বরিশালে এসপি থাকার সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যা, ক্রসফায়ার এবং দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। তার নামে মানবাধিকার সংগঠন ও প্রাক্তন পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে একাধিক অভিযোগ পড়া গেছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে অভ্যন্তরীণ তদন্তের জন্য মনোনীত করে এবং একাডেমিতে পাঠায়।

পুলিশ হেডকোয়ার্টারের এক অধিকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেছেন, “এহসানুল্লাহ বেশ কিছু বিতর্কিত অপারেশনের সাথে জড়িত ছিলেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা থেকে একটি বিশেষ টিম পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি তার আগেই পালিয়ে যান।”

রাজশাহীতে তদন্ত অফিসারদের অভিযান

সন্ধ্যা থেকে রাজশাহী মহানগর পুলিশ, আরএমপি ও সিআইডি এর একাধিক টিম একাডেমি এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়েছে। একাডেমির প্রধান গেট, মেস এবং অফিস কমপ্লেক্সের সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, তিনি পূর্বপরিকল্পিতভাবে এস্কেপ প্ল্যান করেছিলেন।

রাজশাহীর পুলিশ সুপার মো. রকিবুল হাসান বলেছেন, “আমরা তাকে খুঁজে পেতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। বর্ডার এবং বিভিন্ন চেকপোস্টে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন কোনোভাবেই তিনি দেশ ত্যাগ না করতে পারেন।”

অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বিতর্ক

পুলিশ মহলে ধারণা, ডিআইজি এহসানুল্লাহ বিভিন্ন অপারেশন ও দলের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে অভ্যন্তরীণ চাপে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর অফিসে পৌঁছানোর পরই তদন্তের নির্দেশ আসে। এ ঘটনাকে অনেকে ‘অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার সংঘাতের প্রতিফল’ হিসেবে দেখছেন।

তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) জানিয়েছেন, এহসানুল্লাহ নিখোঁজ থাকায় অন্তঃবিভাগীয় তদন্ত গঠন হচ্ছে। এছাড়া তার সব অফিস রেকর্ড, ডিউটি লগ এবং যোগাযোগ ডাটা পর্যালোচনা করা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, “এই ঘটনা পুলিশের ইমেজে একটি অস্বস্তিকর বার্তা দিয়েছে। একজন ডিআইজি স্তরের অফিসার যদি এভাবে নিখোঁজ হন, তাহলে দায়বদ্ধতা ব্যবস্থা পুনরায় পর্যালোচনা করতে হবে।”

জনমনে প্রতিক্রিয়া

ঘটনার পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা চলছে। অনেকে বলছেন, “বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযুক্তরা যদি নিজেরা আইনের আয়ত্তে না আসে, তবে বিচারের আশা করা নিরর্থক।” অন্যরা তদন্তের ফলাফল অপেক্ষা করার পক্ষেই।

ডিআইজি এহসানুল্লাহর পলায়ন বাংলাদেশ পুলিশের অভ্যন্তরে দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। তিনি ধরা না পড়া পর্যন্ত ঘটনাটি অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও জনচর্চার মধ্যে থাকবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অভ্যন্তরীণ ঘটনা যেভাবে জাতীয় চিন্তার বিষয়ে পরিণত হয়েছে, তা এ ঘটনার গুরুত্বই প্রকাশ

#ডিআইজি_এহসানুল্লাহ #PoliceAcademy #BangladeshPolice #BreakingNews #Crossfire #রাজশাহী

an adbox will go here