পিলখানা হত্যাকাণ্ড: বহিঃশক্তি ও দলীয় জড়িততার প্রমাণ মিলেছে
নিজস্ব প্রতিবেদক । জাতীয় । সোমবার , ১ ডিসেম্বর ২০২৫
২০০৯ সালের পিলখানা প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দফরে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গঠন করা হয়েছে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন। কমিশনের তৈরি প্রতিবেদন ৩০ নভেম্বর যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস–কে হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে ২৫–২৬ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড ছিল পরিকল্পিত এবং এর সঙ্গে সরাসরি বহিঃশক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে। তদন্তে নীরব সহায়তা এবং রাজনৈতিক সমন্বয়কারীর ভূমিকা ছিল বলে উল্লেখ রয়েছে — বিশেষ করে তৎকালীন সংসদ-সদস্য ও পরবর্তীতে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস–র নাম উল্লেখ করা হয়েছে প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে। প্রতিবেদন বলেছে, হত্যার সময় তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনা ছিল, অর্থাৎ ঘটনাটির কার্যকারিতা ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিল।
কমিশনের অন্যতম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার বলেন, মামলার সঙ্গে যুক্ত অনেক জওয়ান, পরিকল্পনাকারী ও ষড়যন্ত্রকারীর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তাঁরা দেশের অভ্যন্তরে থাকা-না থাকা, কীভাবে পালিয়েছে — সব কিছু হবে তার মধ্যে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তদের রক্ষা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হত্যা ও ষড়যন্ত্রের সময় সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার গাফিলতিরও প্রমাণ মিলেছে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কিছু অংশও অপেশাদার ও পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা নিয়েছিল বলে উল্লেখ রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “এই প্রতিবেদন ইতিহাসের কঠিন অধ্যায়কে সামনে এনে দিয়েছে। যারা সত্য ও ন্যায়পথে, আর যারা ক্ষমতা ও ষড়যন্ত্রের কাছে বসে, সব প্রশ্নের উত্তর এসেছে।”
কমিশন সুপারিশ করেছে — ২০০৯ সালের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে বিচারের মুখোমুখি করা, সমস্ত আলামত পুনরুদ্ধার, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, এবং ভবিষ্যতে সরকারের, বিচার, নিরাপত্তা ও মিডিয়া ব্যবস্থায় সঠিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা।