শফিকুর রহমান ও নাহিদের বাসায় তারেক রহমান, রাজনীতিতে যে বার্তা
সোমবার , ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সৌজন্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগেই রোববার রাতে তিনি প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ডা. শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলাম-এর বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই সাক্ষাৎকে রাজনীতিতে ইতিবাচক বার্তা । বিএনপি সূত্র জানায়, নির্বাচনোত্তর সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার অংশ হিসেবেই এই সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তারেক রহমান—যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল।
রোববার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াত আমিরের বাসায় প্রবেশ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। প্রায় ৫০ মিনিটের বৈঠকে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন-পরবর্তী শান্ত পরিবেশ বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
সাক্ষাৎ শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী নিজে এসে সম্ভাব্য বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন—এটি রাজনীতিতে নতুন সংস্কৃতির সূচনা। সরকার ও বিরোধী দল মিলেই জনগণের কল্যাণে কাজ করার বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন।
পরে রাত ৮টা ২৫ মিনিটে বিএনপি চেয়ারম্যান বেইলি রোডে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় যান। সেখানে আধা ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, বিচার, সংস্কার ও সংলাপের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। এনসিপি নেতারা জানান, মতভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও জাতীয় স্বার্থে সংলাপ ও সহযোগিতার পথ উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভাজনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে দায়িত্বশীল ও সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিকে অগ্রসর হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।