চীনা বিনিয়োগে অর্থনৈতিক কূটনৈতিক শক্তিশালী হচ্ছে তালেবান
অনলাইন ডেস্ক । দিগন্ত জার্নাল: বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬
আফগানিস্তানে খনিজ সম্পদ উত্তোলন, অবকাঠামো নির্মাণ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে চীন। এতে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে শক্তিশালী হচ্ছে তালেবান সরকার। তবে এসব প্রকল্প ঘিরে স্থানীয় মানুষের জমি, পানির অধিকার ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট-এ সাংবাদিক নাতিক মালিকজাদার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে চীনের বিনিয়োগের পেছনে অর্থনৈতিক স্বার্থের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কৌশলও রয়েছে।
২০২১ সালের আগস্টে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর পশ্চিমা দেশগুলো কূটনৈতিক উপস্থিতি কমালেও চীন কাবুলে দূতাবাস চালু রাখে। তালেবান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশটির খনিজ সম্পদ ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে উদ্যোগ নেয় বেইজিং।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে চীনের জিনজিয়াং সেন্ট্রাল এশিয়া পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানির সঙ্গে আমু দরিয়া অববাহিকায় তেল উত্তোলনে ২৫ বছর মেয়াদি চুক্তি করে তালেবান সরকার। এতে ৫৪ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া লোগার প্রদেশের মেস আয়নাক তামার খনিতেও চীনা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে খনিজ প্রকল্প ঘিরে স্থানীয়দের সঙ্গে কোম্পানিগুলোর বিরোধ বাড়ছে। তাখার প্রদেশের সামতি সোনার খনির কারণে কৃষিজমি ও পানির উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। খনির কার্যক্রম ঘিরে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সংঘর্ষে তিন স্থানীয় বাসিন্দা ও কোম্পানির এক কর্মী নিহত হন। আহত হন আরও পাঁচজন।
বদাখশান প্রদেশেও চীনা অংশীদারিতে সোনা উত্তোলন নিয়ে জমি ও পানির অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের উন্নয়ন দাবির প্রতিবাদ তালেবান কর্তৃপক্ষ দমন করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, তালেবান সরকারের সঙ্গে চীনের কূটনৈতিক যোগাযোগ বেড়েছে। ২০২৩ সালে চীন তালেবান সরকারের কাছে নতুন রাষ্ট্রদূত পাঠায়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং তালেবান সরকারের রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন। তবে চীন এখনো তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিনজিয়াং অঞ্চলের নিরাপত্তা, উইঘুর সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণও চীনের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ। সব মিলিয়ে চীনা বিনিয়োগ তালেবান সরকারের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করলেও স্থানীয় জনগণ খনিজ সম্পদের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।