যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে যেভাবে
অনলাইন ডেস্ক । দিগন্ত জার্নাল: বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে ভোট দিচ্ছেন দেশটির ভোটাররা। প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের ৩৫টি আসনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নির্বাচন। এই নির্বাচনের ফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময়ের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে অন্তত ২১৮টি আসন প্রয়োজন। নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের হাতে ২১৮টি আসন থাকলেও দুটি আসন শূন্য রয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের আসন ২১৪টি। এ ছাড়া একজন স্বতন্ত্র সদস্য রয়েছেন। তাই প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত তিনটি আসন বাড়াতে হবে।
অন্যদিকে, সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাব কিছুটা আলাদা। ১০০ সদস্যের এই কক্ষে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি। ডেমোক্র্যাটদের রয়েছে ৪৫টি আসন। পাশাপাশি দুই স্বতন্ত্র সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন। ফলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের নিট চারটি আসন বাড়াতে হবে।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পাওয়া ডেমোক্র্যাটদের জন্য কঠিন হতে পারে। কারণ, নিজেদের আসন ধরে রাখার পাশাপাশি রিপাবলিকানদের দখলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ আসনেও জয় পেতে হবে। তবে দুই দলের আসন সমান হলে ভাইস প্রেসিডেন্টের ভোটে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
এবারের নির্বাচনে জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসননীতি ও ইরান যুদ্ধের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে যাওয়ায় প্রতিনিধি পরিষদে জয়ের আশা করছে ডেমোক্র্যাটরা। তবে নির্বাচনী তহবিল ও প্রচারণায় রিপাবলিকানদের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে।
রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও নীতি বাস্তবায়ন সহজ হবে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা এক বা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে প্রশাসনের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও বাজেট প্রস্তাবে বাধা দিতে পারবে। তাই এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের বাকি মেয়াদের রাজনৈতিক শক্তি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।