টিউলিপের অসচেতনতা ‘দুঃখজনক’: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর নীতি উপদেষ্টা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ব্রিটিশ সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং এর ‘সম্ভাব্য ঝুঁকি’ সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর নীতি উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাস। টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত শেষে এক চিঠিতে এ মন্তব্য করেন তিনি।
স্যার লরি ম্যাগনাস চিঠিতে উল্লেখ করেন, টিউলিপ সিদ্দিক তার পরিবারের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার ঝুঁকি উপলব্ধি না করায় এটি ‘দুঃখজনক’। তবে তিনি মন্ত্রিত্বের আচরণবিধি ভঙ্গ করেননি।
অভিযোগের পটভূমি: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে বাংলাদেশের আদালত।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের অর্থায়নে কেনা একটি ফ্ল্যাট থেকে টিউলিপ সিদ্দিক সুবিধা পেয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
টিউলিপের ভূমি রেজিস্ট্রি নিয়ে বিভ্রান্তি: চিঠিতে ম্যাগনাস উল্লেখ করেন, টিউলিপ সিদ্দিক ২০২২ সালে এক প্রশ্নের জবাবে ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, ফ্ল্যাটটি তার বাবা-মায়ের উপহার বলে জানতেন এবং সম্পত্তির প্রকৃত উৎস সম্পর্কে অসচেতন ছিলেন।
নীতিগত দৃষ্টিকোণ: স্যার ম্যাগনাস জানান, এ ধরনের বিষয়ে আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল টিউলিপের। যদিও এটি মন্ত্রিত্বের আচরণবিধি লঙ্ঘন নয়, তবে বিষয়টি মন্ত্রিসভার দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এ ঘটনায় টিউলিপের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে টিউলিপের দায়িত্ব পুনর্মূল্যায়নের পরামর্শ দিয়েছেন নীতি উপদেষ্টা।
উল্লেখ: টিউলিপ সিদ্দিক বাংলাদেশের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি।